পাতা:সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড.djvu/২২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ゞb〜総 মংবাদ পত্রে মেকালেনৰ কথা অতএব বিবেচনা কর শিল্পকৰ্ম্মকারির দুই জন পাচ জন এই নগরে আসাতে এদেশীয় শিল্পকৰ্ম্মকারিপ্রভৃতি লোকের কি অবস্থা হইয়াছে পরে ভূরিলোক আইলে কি হইবে তাহা কি এই দৃষ্টাস্তে বুঝা যায় না । ( ১৫ জানুয়ারি ১৮২০ । ৩ মাঘ ১২২৬ ) প্রতারণা –মোং শান্তিপুরে ঐগুরু ও গোপেশ্বর নামে দুই মামা ভাগিনেয় বাস করিতেন তাহারা চিরকাল ধূৰ্ত্ততা করিয়া কাল যাপন করিতেন অন্য জীবিকা তাহারদের ছিল না অনেক২ লোকেরদের স্থানে প্রতারণাদ্বারা ধনোপার্জন করিতেন । এক কালে দুই মামা ভাগিনেয় পরামর্শ করিয়া দেশান্তরে গেলেন ও সেখানে এক গ্রামে এক ভাগ্যবান লোকের বাটীতে উপস্থিত হইয়া মামা সেই ভাগ্যবানকে বিনয়ে কহিলেন যে মহাশয় আমার সঙ্গি এক ব্রাহ্মণবালককে আমি বিক্রয় করিব আপনকার বাটীতে বিগ্রহসেবা আছে যদি আপনি ক্রয় করেন তবে উপযুক্ত মূল্য দিয়া ক্রয় করুন আপনকার বাটাতে বিগ্রহ সেবাদি করিবেন। তাহাতে ভাগ্যবান ব্যক্তি স্বীকৃত হইল ও উভয় সম্মতিতে এক শত টাকা তাহার মূল্য স্থির হইল এবং অন্ন বস্ত্র সরকারহইতে পাইবেক । এই নিয়মে মামা ভাগিনেয়কে বিক্রয় করিয়৷ এক শত টাকা নগদ লইয়া প্রস্থান করিল। ভাগিনেয় ঐ ভাগ্যবানের বাটীতে বিগ্রহসেবার কৰ্ম্মে নিযুক্ত হইয়া পুষ্পচয়ন ও পাক ও জলাহরণাদি সকল কৰ্ম্ম করিতে লাগিল ক্রমে২ ঐ ব্রাহ্মণের সহিত ভাগ্যবান ব্যক্তির নানা প্রকারে আহার ব্যবহার হইল। এই রূপে মাসেক দুই মাস গত হইলে ঐ ধূৰ্ত্ত ভাগিনেয় সে কৰ্ম্ম করাতে বিরক্ত হইয়া সেখানহইতে মুক্ত হইবার এই উপায় ভাবিয়া স্থির করিল। পর দিন অতি প্রত্যুষে উঠিয়া পুষ্পচয়নে গেল ও অপ্রকাশরুপে পুষ্পরনে পশ্চিমাস্ত হইয়া ও কাছা খুলিয়া যবনের মত নমাজ করিতে লাগিল। ঐ বাটীর কৰ্ত্তা তাহ দেখিয়া ঐ ব্রাহ্মণকে যবন জ্ঞান করিয়া অতি উদ্বিগ্ন হইয়া ভাবিতে লাগিল যে হায় এই অজ্ঞাত কুল শীল অপরিচিত ব্যক্তিকে এক শত টাকা দিয়া ক্রয় করিলাম এ কদাচ হিন্দু নহে এ নিতান্ত যবন হায় আমার এক শত টাকাও গেল জাতিও গেল যদি আমার জ্ঞাতি কুটুম্বির ইহা জানিতে পায় তবে আমাকে অব্যবহার্য্য করিবে। দুই তিন দিন তাহার এই রূপ ব্যবহার দেখিয়া বাটীর কৰ্ত্তী ব্রাহ্মণকে নিশ্চয় যবনজ্ঞান করিল ও শীঘ্র তাহাকে বিদায় করিবার নিমিত্ত তাহাকে কহিল যে হে বাপু তুমি আপন পিতা মাতার নিকটে যাও। ধূৰ্ত্ত কহিল যে কেন মহাশয় আমার কোন কৰ্ম্মে ক্রটি পাইয়৷ আমাকে বিদায় করেন আমি তোমার আশ্রয়ে অন্ন বস্ত্রে মুখে আছি আপন পিতা মাতার নিকটে গিয়া কি খাইব যদি তুমি আমাকে নিরপরাধে বিদায় কর তবে সকল কথা প্রকাশ করিব। ইহা শুনিয়া ঐ কৰ্ত্তা ভীত হইয়া আর এক শত টাকা দিয়া ও অনেক বিনয় করিয়া বিদায় করিল ঐ ধূৰ্ত্ত বিদায় হইয়া আপন মামার নিকটে গেল ও মামার নিকটে সকল বৃত্তাস্ত কহিল। মামা শুনিয়া কহিলেক যে না হইবেক কেন মামার উপযুক্ত ভাগিনেয় বটে। ঐগুরু গোপেশ্বরের এই রূপ অনেক কথা প্রসিদ্ধ আছে ।