পাতা:সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড.djvu/৪৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সম্পাদকীয় ●●● পৃ. ১৩-১৫ — স্ত্রীশিক্ষা । উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে মিশনরীদের উদ্যোগে কলিকাতায় বালিক-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করিয়া ব্যাপকভাবে স্ত্রীশিক্ষার আয়োজন আরম্ভ হয় । এই সময়ে স্ত্রীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝাইবার জষ্ঠ একখানি পুস্তক প্রকাশিত হয় । পুস্তকখানিতে প্রাচীন ও আধুনিক কালের অনেক বিদুষী হিন্দু মহিলার দৃষ্টান্ত উদ্ধার করিয়া স্ত্রীশিক্ষা যে সামাজিক রীতি ও নীতি বিরুদ্ধ নয় তাহ প্রমাণ করিবার চেষ্টা করা হইয়াছিল। এই পুস্তকখানির নাম ‘স্ত্রীশিক্ষাবিধায়ক, ইহার লেখক গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার। সে-যুগের স্ত্রীশিক্ষা—হিন্দু প্রচেষ্টা ও খ্ৰীষ্টীয়ান প্রচেষ্টা সম্বন্ধে শ্ৰীযুত যোগেশচন্দ্র বাগল আলোচনা করিয়াছেন (ভারতবর্ষ'-আষাঢ় ১৩৪২, পৃ. ৯৭-৯৭ ; ভাদ্র ১৩৪২, পৃ. ৪১১-২৪ এবং দেশ’ ২৭ আষাঢ় ১৩৪৩)। তাহার দ্বিতীয় প্রবন্ধে ফিমেল জুভিনাইল সোসাইটি, লেউস্ সোসাইটি প্রভৃতির বিস্তৃত বিবরণ অাছে। এখানে আমি কেবল সে-যুগের সংবাদপত্র হইতে আরও কিছু দৃষ্টান্ত উদ্ধার করিয়া দেখাইতে চেষ্টা করিব যে সন্ত্রাস্ত পরিবারে স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন ছিল। ১৮৪৯ সনে বীটন (Bethune) সাহেব কলিকাতায় হিন্দু বালিকা-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করিলে তুমুল আন্দোলনের স্থষ্টি হয় । স্ত্রীশিক্ষার সমর্থন করিয়া গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশ ৩১ মে ১৮৪৯ তারিখে । ‘সস্বাদ ভাস্করে’ লেখেন :-- “কলিকাতা নগরে বালিকাদের শিক্ষালয় হইয়াছে ইহাতে সকলেই গোলযোগ করিতেছেন, কিন্তু আমর বারম্বার বলিয়াছি এবং বলিতেছি আরো বলিব এতদেশীয় স্ত্রীলোকদিগের শিক্ষার প্রথা নবীন প্রথা নহে, স্বৰ্য্যবংশীয় রাজাদিগের সময়াবধি যবনাধিকারের পূর্ব পর্য্যস্ত হিন্দু স্ত্রীলোকের নিয়মিত রূপে বিদ্যাভ্যাস করিয়াছেন আমরা ইহার অনেক প্রমাণ প্রকাশ করিয়াছি এবং যবনাধিকারোপরমে ব্রিটিসাধিকারাগমাবধি পুনৰ্ব্বার হিন্দু স্ত্রীলোকদিগের মধ্যে বিদ্যাভ্যাস ব্যবহার হইয়াছে, বৰ্দ্ধমানের মহারাণী বিষ্ণুকুমারী, বারেন্দ্র ভূমীন্দ্র ভামিনী মহারাণী ভবানী দেবী বিদ্যাভ্যাস করিয়াছিলেন অদ্যাপিও র্তাহারদিগের স্বহস্তে নামাঙ্কিত ভূমি দানপত্র অনেকের স্থানে আছে, তদবধি বৰ্দ্ধমান রাজবাটীতে এবং নাটোরের রাজবাটীতে স্ত্রীলোকদিগের বিদ্যাভ্যাসের প্রথা হইয়াছে, বদ্ধমানধিরাজ স্বগীয় মহারাজ তেজশ্চন্দ্র বাহাদুরের পট্টমহিষী ৬ প্রাপ্ত মহারাণী কমলকুমারী স্বয়ং লিথিতে পড়িতে পারিতেন, বিদ্যাবলে ঐ মহারাণী মহারাজ তেজশ্চন্দ্র বাহাদুরের বর্তমান কালাবধি আপনি রাজকাৰ্য্য করিয়াছেন, এবং v মহারাজাধিরাজ প্রতাপচন্দ্র বাহাদুরের দুই রাণী বৰ্ত্তমান আছেন, তাহারাও লিখন পঠন বিষয়ে অতি সুশিক্ষিতা, এবং নবদ্বীপাধিপতি ৬ মহারাজাধিরাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় বাহাদুরের পরিবারেরাও বিদ্যাভ্যাস করিয়াছিলেন । কলিকাতা নগরে মান্ত লোকদিগের বালিকার প্রায় সকলেই বিদ্যাভ্যাস করেন, y প্রাপ্ত রাজা সুখময় রায়বাহাদুরের পরিবারগণের মধ্যে বিদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক প্রচলিতরূপ হইয়াছিল, বিশেষত রাজা সুখময় রায়বাহাদুরের পুত্র v প্রাপ্ত রাজা শিবচন্দ্র রায় বাহাদুরের কন্যা ৬ প্রাপ্ত হরসুন্দরী দাসী সংস্কৃত, বাঙ্গাল, হিন্দী এই তিন ভাষায় এমত সুশিক্ষিত হইয়াছিলেন পণ্ডিতেরাও র্তাহাকে ভয় করিতেন । হরসুন্দরী দাসী পঞ্চবর্ষীয় কালে কিশোরী বৈষ্ণবীর নিকট অক্ষর শিক্ষা করেন, তৎপরে রাজবাটীর স্বস্ত্যয়নি একজন প্রাচীন ব্রাহ্মণের স্থানে সংস্কৃত ভাযার কয়েক গ্রন্থ শিক্ষা করিয়াছিলেন, সেই সময়ে রামায়ণের ভাষা পুস্তক মুদ্রাঙ্কিত হইয়া প্রকাশ হয়, রাজকন্তু ঐ গ্রন্থ ক্রয় করিয়া এক দিবস অন্তঃপুরে এক গৃহে একাকিনী মৃদুস্বরে তাহা পাঠ করিতেছিলেন এমত সময়ে রাজা শিবচন্দ্র রায় বাহাদুর হঠাৎ অন্তঃপুরে যাইয়া সুস্বর শ্রবণে জিজ্ঞাসা করিলেন, এ ঘরে রামায়ণ পাঠ করে কে, রাজকন্তু পিতার স্বর শ্রবণে ভীত হইয়া গোপনীয় স্থানে গ্রন্থ রাখিয়া লজ্জিতাভাবে দণ্ডায়মান হইলেন, ইহাতেই রাজা বুঝিতে পারিলেন হরমুন্দরী রামায়ণ পাঠ করিয়াছেন, রাজ শিবচন্দ্র রায় বাহান্থর বিদ্যামুরাগী ছিলেন, তাহার ধনেতেই চন্দ্রিক যন্ত্রালয়ে শ্ৰীমদ্ভাগবত গ্রন্থ অতি শুদ্ধরূপে