পাতা:সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড.djvu/৪৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সম্পাদকীয় so স্বামিকে বলিতেন, “তুমি গ্রন্থ পাঠ কর” পৃথিবীর সকল রস পুস্তকের মধ্যে আহৃত হইয়াছে, কিন্তু র্তাহার পতি ইন্দ্রিয়পরায়ণ এই লোকনাথ মল্পিক.পুস্তক পাঠ করিতে পারিতেন না, লজ্জিত হইয়। স্ত্রীর নিকট হইতে পলায়ন করিতেন । আমরা এই প্রস্তাব লিখিতেই শ্ৰীযুত বাবু প্রসন্নকুমার ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ কন্যাকে স্মরণ করিয়া শোকাচ্ছন্ন হইলাম, এসময়ে ঐ কন্যা বর্তমান থাকিলে মুক্ত শ্রেণীর স্তায় তাহার অক্ষর শ্রেণী ও নানা প্রকার রচনা দেখাইয়৷ সাধারণকে সন্তুষ্ট করিতে পারিতাম, যাহা হউক, গত স্বচনায় শোক বৃদ্ধি করিয়া প্রয়োজন নাই, আপাততঃ শ্ৰীযুত বাবু আশুতোষ দেব মহাশয়ের কন্যার বিদ্যাভ্যাসের কিঞ্চিৎ লিখিয়া প্রস্তাব সমাপন করি । আশুতোষ বাবুর কন্যা গৌড়ীয় ভাষা, উর্দ ভাষা, ব্রজভাষায় সুশিক্ষিত হইয়াছেন, এবং দেবনাগরাক্ষর লিখন পঠন বিষয়ে পণ্ডিতেরাও তাহার ধন্যবাদ করেন, বিশেষতঃ শিল্প বিদ্যায় ঐ কস্তার যে প্রকার ব্যুৎপত্তি হইয়াছে অমুমান করি ইংলণ্ডদেশীয় প্রধান শিল্পকারিকারাও তাহার শিল্পকৰ্ম্মদর্শনে হৰ্ষ প্রকাশ করিবেন, আমরা আশুতোষ বাবুর কন্থার স্বহস্ত নিৰ্ম্মিত কয়েক বস্তু সংগ্ৰহ করিয়াছি, ভরসা করি এতদেশীয় বালিকাদিগের বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মহাশয়গণের আগামিনী সভায় তাহা উপস্থিত করিয়া সকলকে দেখাইতে পারিব । 翁 এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের বিদ্যা শিক্ষার প্রবাহ মৃদুগমনে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইতেছিল এই সময়ে এমত এক মহৎ ব্যক্তি যিনি রাজশক্তি দ্বার স্বষ্টি স্থিতি প্রলয় করিতে পারেন তিনি হঠাৎ কলিকাতা নগরে আসিলেন এবং হিন্দু বালিকাদিগের শিক্ষা বিষয়ে তাহার দয়ার সম্পূর্ণ কিরণ প্রকাশ করিলেন, ইহাতে আমারদিগের কি পৰ্য্যস্ত সাহস ও উৎসাহ জন্মিয়াছে লেখনী দ্বার। তাহার সীমা নির্দেশ করিতে পারি না..এতদেশীয় মান্ত লোকেরা ঐ মহাশয়ের অর্থাৎ খ্ৰীযুত বেথুন সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া তাহার অভিপ্রেত বিষয়ের যথাসাধ্য আনুকুল্য করুন, বেথুন সাহেব প্রজাপালক, প্রজানাশক নহেন, তিনি প্রজার ইষ্ট ব্যতীত অনিষ্ট করিবেন না, সৰ্ব্বসাধারণ লোকেরা ইহা নিশ্চিত জানিবেন ।” গৌরীশঙ্কর পুনরায় ১৯ এপ্রিল ১৮৫১ তারিখে ‘সম্বাদ ভাস্করে’ লেখেন :– “অদুরদর্শির কহেন মহিলার অবলা, তাহারদিগকে শিক্ষা দিলেও স্বশিক্ষা করিতে পরিবেক না, কেহ২ ইহাও বলেন স্ত্রীলোকদিগকে বিদ্যা দান করিয়া উপকার কি, আমরা এক স্ত্রীলোকের বিদ্যা শিক্ষার দৃষ্টান্ত দেখাইয়। বিপক্ষ পক্ষের এই দুই আপত্তির উত্তর করি, অমৃভব হইতেছে আমারদিগের প্রস্তাব পাঠে বিদ্যান্থরাগি মহাশয়ের ঐ স্ত্রীলোককে দেখিতে উৎসাহ প্রকাশ করিবেন । খানাকুল কৃষ্ণনগরের সন্নিহিত বেড়াবাড়ী গ্রাম নিবাসি---শ্ৰীযুত চণ্ডীচরণ তর্কালঙ্কারের কন্য শ্ৰীমতী দ্রবময়ী দেবী...বালিকা কালে বিধবা হইয়া পিতা চণ্ডীচরণ তর্কালঙ্কারের টোলে পড়িতে আরম্ভ করিলেন তাহাতে সংক্ষিপ্তসার ব্যাকরণের সাতখান মূল সাতখান টাকা এবং অভিধান পাঠ সমাপ্ত হইলে চণ্ডীচরণ তর্কালঙ্কার স্বকস্তার ব্যুৎপত্তি দেখিয়া কাব্যালঙ্কার পড়াইলেন এবং দ্যায় শাস্ত্রের কিয়দংশও শিক্ষা দিলেন, পরে দ্রবময়ী গৃহে আসিয়া পুরাণ, মহাভাগবতাদি দেখিয়া হিন্দুজাতির প্রায় সৰ্ব্বশাস্ত্রে সুশিক্ষিত হইলেন, এইক্ষণে দ্রবময়ীর বয়ঃক্রম চৌদ্দ বৎসর, পুরুষেরা বিংশতি বৎসর শিক্ষা করিয়াও যাহা শিক্ষা করিতে পারেন না, দ্রবময়ী চতুর্দশ বৎসরের মধ্যে ততোধিক শিক্ষা করিয়াছেন, এইক্ষণে র্তাহার পিতা চণ্ডীচরণ তর্কালঙ্কার বৃদ্ধ হইয়াছেন, সকল দিন ছাত্রগণকে পড়াইতে পারেন না, র্তাহার টোলে ১৫১৬ জন ছাত্র আছেন, দ্রবময়ী কিঞ্চিৎ ব্যবধানে এক আসনে বসিয়া পিতার টোলে ছাত্রগণকে ব্যাকরণ, কাব্যালঙ্কার, ব্যাকরণ শাস্ত্র পড়াইতেছেন, র্তাহার বিদ্যার বিবরণ শ্রবণ করিয়া নিকটস্থ অধ্যাপকের অনেকে বিচার করিতে আসিয়াছিলেন, সকলে পরাজয় মানিয়া গিয়াছেন, দ্রবময়ী DDDD DDD DDDD DDD DDBBBBBS BBB BBB BBB BS BBB BB BB BBBS সম্মুখে ব্ৰাহ্মণ পণ্ডিতগণকে বসিতে আসন দেন, তাহার মস্তক এবং মুখ নিরাবরণ থাকে, তিনি চাৰ্ব্বলী যুবতী, ইহাতেও পুরুষদিগের সাক্ষাতে বসিয়া বিচার করিতে শঙ্কা করেন না, ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণের সহিত