পাতা:সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড.djvu/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষণ 8S (২৫ অক্টোবর ১৮২৮ । ১০ কাৰ্ত্তিক ১২৩৫ ) ভবানীপুরের ইস্কুল –মোং ভবানীপুরে একটা ইংরাজি ইস্কুল অর্থাৎ পাঠশালা আছে এই পাঠশালার ছাত্রদিগের পাঠের পরীক্ষালওনহেতুক কএক জন সাহেব গমন করিয়া তাহারদিগকে কএক বিষয় জিজ্ঞাসা করাতে তাহারা বিলক্ষণ প্রত্যুত্তর প্রদান করিল। এই পাঠশালাতে প্রায় ৪০০ শত হিন্দু ছাত্র পাঠ করে ইহারা সকলেই ইংরাজি পড়ে এবং এই পাঠশালার তাবৎ খরচ পত্র এক ব্যক্তি মহৎ বাঙ্গালি করেন র্তাহার নাম প্রকাশ হয় নাই কিন্তু ইহার এ মহৎ কৰ্ম্মে সকলেই প্রশংসা করিবেন । ইহা প্রকাশের পরে ইনডিএ গেজেটসম্পাদক মহাশয় কহিয়াছেন যে এতদ্দেশের ধনাঢ্য লোকের এরূপ উত্তম কৰ্ম্ম না করিয়া সতত নাচ ও রাগ রঙ্গে অধিক টাকা ব্যয় করেন কিন্তু সে ব্যয়ের নাম যখনকার তখনি থাকে কিন্তু এরূপ উত্তম ও পরোপকারক কৰ্ম্মে ব্যয় করিলে তাহার নাম চিরস্মরণে থাকে । ঐ সম্পাদক মহাশয় যাহা লিখিয়াছিলেন তাহ মান্য বটে কিন্তু আমরা জ্ঞাত অtছি যে এতদেশীয় বড় মানুষ মহাশয়ের যেমত নাচপ্রভৃতি আমোদে ব্যয় করিয়া থাকেন তদনুরূপ ইহার বিদ্যাভ্যাসপ্রভৃতি আর২ নানা উত্তম কৰ্ম্মেও ব্যয় করিয়া থাকেন তাহ নানাপ্রকারে সদরে সাদর অর্থাৎ প্রচার আছে । সং চং ( ৭ মার্চ ১৮২৯ ।। ২৫ ফাল্গুন ১২৩৫ ) ভবানীপুরের স্কুল –গত সপ্তাহে ভবানীপুরের স্কুলের ছাত্রেরদের পরীক্ষ হইল সেই ভবানীপুরের স্কুল প্রায় ত্রিশ বৎসর হইল শ্ৰীজগমোহন বস্থকর্তৃক স্থাপিত হইয়াছে বালকের প্রাচীন ইতিহাস ও ব্যাকরণ ও ভূগোল ও খগোল বিদ্যাতে উত্তম পরীক্ষা দিল তাহার পর তাহার নানা গ্রন্থের আবৃত্তি করিল এবং যে২ বিষয়ে তাহারদের পরীক্ষা হইল সেই২ বিষয়ে তাহারদের পরীক্ষা উত্তমরূপে হইল । আমরা শুনিতেছি যে এই পাঠশালার তাবৎ খরচপত্র ঐ জগমোহন বস্থ ধৰ্ম্মার্থে দান করিতেছেন ইহাতে র্তাহার উপযুক্ত প্রশংসা গত সপ্তাহের ইঙ্গরেজী সমাচারপত্রে প্রকাশ পাইয়াছে তাহার অনুগামী হইয়া আমরা এক্ষণে যে অল্প প্রশংসা করি তাহাতে ঐ জগমোহন বঙ্ক বিরক্ত হইবেন না ইতর লোকেরদের নিকটে গান ও বাদ্য প্রদানের যে মূল্য থাকে তদ্বিষয়ে আমরা স্তুতি কি অবজ্ঞা করিব না কিন্তু আমরা এই জানি যে এই পৃথিবীর মধ্যে যেখানে যত শাস্ত্র ও কাব্যাদি অাছে তাহাতে বিদ্যাদানের গুণ লিখিত আছে এবং সকল জাতির মধ্যে ইহার অতিস্থখ্যাতি আছে বিশেষতঃ এ দেশে বিদ্যা প্রদানের বিষয়ে অল্প লোকের মন ছিল সমারোহপূর্বক বিবাহ দেওয়া কি শ্ৰাদ্ধকরণেতে যেরূপ মুখ্যাতি পাওয়া যায় তাদৃশ স্থখ্যাতি আদ্যপর্য্যন্ত এ দেশের মধ্যে অন্য কোন বিষয়ে পাওয়া যায় না এতন্নিমিত্তে র্যাহারা মুখ্যাতির সাধারণ পথ ত্যাগ করিয়া বিদ্যাদানের অপ্রকাশিত পথে গমন করেন র্তাহারদিগের স্তব জ্ঞাপন করা সম্বাদপত্রের দ্বারা অত্যুচিত ।