পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

বৈদিক সাহিত্য o সান ভাই বেবিদ্যাধীর পক্ষে একমাত্র অন্ধের ঘট। ইউরোপীয় পণ্ডিতদের চেষ্টায় এইসব প্রাচীন গ্রন্থের আলোচনায় আরো ৰোধের পথ সুগম হয়েছে– একথা অস্বীকার করবার জো নেই, তাদের ব্যাখ্যায় কিন্তু পরস্পর যথেষ্ট বেমিল আছে । পরে আবার জেন আবেস্তা গ্রন্থ পাওয়া যাবার পর বেদ বুঝবার আরো স্থবিধে হয়েছে। এ ছাড়া অ্যালেরিয়া মিশর ব্যাবিলোনিয়ার বংসাবশেষে প্রাপ্ত নানা উপকরণে এ বিষয়ে অনেক সাহায্য পাওয়া গেছে। বৈদিক সাহিত্য তিনভাগে বিভক্ত— সংহিতা, ব্রাহ্মণ, ও উপনিষদ। ঋকৃ যজু সাম অথর্ব এই চারখানি সংহিতা । এগুলিতে গদ্যে ও পদ্যে রচিত মন্ত্র আছে ৷ যজুর্বেদ আবার কৃষ্ণযজুঃ ও শুক্লযজুঃ ভেদে দুই রকম । ব্রাহ্মণগুলি গন্তে লেখা। কচিৎ কোথাও কোথাও পদ্ধ আছে। কর্মকাণ্ডের ওপরেই ব্রাহ্মণ লিখিত। কখন কিভাবে যজ্ঞে আগুন জালতে হবে, কুশ কিভাবে কোথায় রাখতে হবে, কোন যজ্ঞে কী আহুতি কিভাৰে দিতে হবে এই সব কথাই কোথাও কারণ দেখিয়ে কোথাও বা আমনি লেখা আছে তাছাড়া ব্রাহ্মণে সেই সময়ের প্রচলিত আর লোক পরম্পরায় আগত অনেক গল্পও আছে । এইসব গল্পই পরবর্তী যুগের পুরাণ ইতিহাসের আদি পুরুষ । ব্রাহ্মণগুলিতে সংহিতাগুলির প্রামাণ্য মেনে নেওয়া হয়েছে বলে বোঝা যায় ব্রাহ্মণের আগেই সংহিতাগুলি পূর্ণতা পেয়েছিল । এটা অবশ্ব মনে করা উচিত যে সংহিতা আর ব্রাহ্মণের মাঝামাঝি আরো কিছু রচিত হয়ে থাকবে । কেননা মূল সংহিতার অনেক অংশ আর ব্রাহ্মণগ্রন্থেরও অনেকগুলি লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। সেইসব গ্রন্থে কী ছিল তা আর জানবার উপায় নেই। যদিচ ব্রাহ্মণগুলির প্রধান লক্ষ্য কর্মকাণ্ডের ওপর তবু এগুলিতে ব্যাকরণ, দর্শন, আয়ুৰ্বেদ প্রভৃতির অস্পষ্ট আলোচনা আছে : এই ব্রাহ্মণগ্রন্থের পর বেদের দার্শনিক ভাগ, যাতে আত্মা ঈশ্বর জীব জগৎ প্রভৃতির আলোচনা আছে। । এই দর্শনভাগের নাম আরণ্যক বা উপনিষদ। ভারতের প্রায় সমস্ত দর্শনই এই উপনিষদ আশ্রয় করে উদ্ভূত। জৈন আর বৌদ্ধর উপনিষকে স্বীকা