পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

বেদাঙ্গ > ছিল না। ছোটাে ছোটো কথাই মুখস্থ করার পক্ষে স্ববিধে । সেইজন্তে ছোটো ছোটো বাক্যে শাস্ত্রের তাৎপর্য রচিত হোত । এগুলিকে স্বত্র বলে । সূত্র সবই প্রায় গদ্যে রচিত কচিং পন্তেও দেখা যায়। পরে কিন্তু বড়ো বড়ে। লেখাকেও স্বত্র বলা হয়েছে বিশেষত জৈন বৌদ্ধ শাস্ত্রে। এখন বেদাঙ্গগুলির মধ্যে প্রথম, শিক্ষণ। তাতে আছে কোন অক্ষর কী ভাবে কী রকম স্বরে কী রকম উচ্চারণে পাঠ প্রভৃতি করতে হয় । অনেকগুলি শিক্ষাগ্রন্থ ছিল তার কিছু লুপ্ত হয়ে গেছে কিছু পাওয়াও যায় । কতকগুলি শিক্ষা ছাপাও হয়েছে । এর মধ্যে পাণিনির শিক্ষাই প্রাধান্য লাভ করেছে। শিক্ষার বদলে শীক্ষা এরকম বানানও পুথিতে আছে। তিনরকম স্বরে বেদ পাঠ হয়, একটা উচু স্বর, তাকে বলে উদাত্ত। আর একটা নিচু স্বর তার নাম অমুদাত্ত। আর একটা মাঝারি স্বর তার নাম স্বরিত | শিক্ষার পর হোলো জ্যোতিষ । চন্দ্রের হ্রাসবৃদ্ধি নিয়ে দিন গোনা হোত । অমাবস্তা পূর্ণিমা প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ বিশেষ যজ্ঞ কতব্য । এজন্য দিন ঠিক করতে জ্যোতিষের নিতান্তু আবশুক । বেদাঙ্গ জ্যোতিষের প্রণেতা লগধ নামক আচার্য । ঋগ বেদাঙ্গ-যজুর্বেদাঙ্গভেদে এর দুভাগ হোলেও পরস্পরে কোনো তফাত নেই। এতে ৩৬টি শ্লোক আছে। এখানি খুব উপযোগী বই | পরবর্তী কালে হিন্দু জ্যোতিষ বিশেষ বিপুলতা লাভ করে । এই জ্যোতিষকে তিনভাগে ভাগ করা যেতে পারে, সংহিতা, গণিত আর জাতক । ইউরোপীয় পণ্ডিতদের অনেকের মত মগ ( magie ) থেকে সংহিতা, আর গ্রীকৃদের কাছ থেকে জাতক নেওয়া হয়েছে। এই তিনভাগেই সংস্কৃত ভাষায় বিশাল জ্যোতিষশাস্ত্র গড়ে উঠেছে। গণিতে হিন্দুগণ নিজস্ব জ্ঞানের উৎকর্ষ দেখিয়েছেন। আবার কতকগুলি বিষয় এর গ্ৰীকৃপণ্ডিতদের কাছ থেকেও নিয়েছেন । TI