পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

X 3" সংস্কৃত সাহিত্যের কথা করেন। আজকাল আমরা যে রামায়ণ মহাভারত হাতে পাই তা এক সময়ের লেখা নয়। সেই প্রাচীন লেখার সঙ্গে অনেক অপ্রাচীন লেখার যোগ হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এইরকম যোগ হোতে হোতে রামায়ণ মহাভারতের রূপান্তর ঘটেছে। রামায়ণ কাব্যাংশে আর মহাভারত সাহিত্যাংশে সর্বশ্রেষ্ঠ একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। কাব্য বলতে এখানে কেবল রসকে আর সাহিত্য বলতে বিজ্ঞান নীতি প্রভৃতি বিষয়ের সহিত যোগকে লক্ষ্য করা গেল । খ্ৰীষ্টপূর্ব পাঁচশো বছর আগেই রামায়ণ মহাভারত বর্তমানরূপে পরিণত হয়েছিল । । মহাভারতের তিনরকম সংস্করণ দেখা যায়। দক্ষিণ ভারতীয়, উত্তর ভারতীয় আর মালাবারী। মালাবারের মহাভারত খ্ৰীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে পূর্ণত্ব প্রাপ্ত– একথা পণ্ডিতদের স্বীকৃত। উত্তর দক্ষিণের মহাভারতের অনেক ংশ পরে যোগকরা, রামায়ণেরও ঐ দশা। পূর্ব ভারতে মধ্যভারতে আর পশ্চিম ভারতে তার প্রকারাস্তর ঘটেছে । অধিকাংশ পণ্ডিতের অভিমত— রামায়ণের আদিকাও আর উত্তরকাণ্ড অনেক পরে লিখে যোগ করা । রামায়ণ মহাভারতের পরে আসে পুরাণের কথা । ভারতবর্ষে পুরাণ ষে কত আছে তার ঠিক নেই। সাধারণত অষ্টাদশ মহাপুরাণ আর অষ্টাদশ উপপুরাণেরই প্রাধান্ত । এই মহাপুরাণ আর উপপুরাণ নিয়েও ঢের বাদ বিবাদ আছে—মোটকথা পুরাণ নামক বা তজ্জাতীয় পুস্তক একশোর ওপরে । পুরাণ রচনা কবে থেকে আরম্ভ হয়েছে তা বলা কঠিন। কেননা রচনা আর বিষয় সন্নিবেশ দেখলে মনে হয় সব পুরাণ একসময়ের রচনা নয়। পাজিটর সাহেব পুরাণ নিয়ে অনেক আলোচনা করেছেন তার মতে কোনো কোনো পুরাণ খ্ৰীষ্টপূর্ব অন্ধে রচিত। জ্যাক্সনের মতে—খ্ৰীষ্টপূর্ব দুশো বছর আগে পুরাণ নামে যে সব বইপত্র ছিল সেগুলি নানা সম্প্রদায়ের হাতে পড়ে নানারূপ ধরেছে ।