পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

সংস্কৃত সাহিত্যের কথা

যোগ দর্শনে ঈশ্বরকে মানা হয়েছে বলে সেশ্বর সাংখ্য বলা হয়। যোগদর্শন পাতঞ্জলদর্শন নামেই খ্যাত। কারো মতে ব্যাকরণের ভাষ্যকার পতঞ্জলি এই দর্শন করেছেন,কারো মতে তা নয়। পূর্ব মীমাংসা দর্শন শুধু মীমাংসা দর্শন নামে খ্যাত। ব্যাসের শিষ্য জৈমিনি এই দর্শনের কত। সবচেয়ে প্রাচীন যা ভাষ্য তা এই দর্শনের— শবরস্বামীর লেখা। মীমাংসা দর্শনে বেদের প্রামাণ্য, আর যাগযজ্ঞের দ্বারাই ইষ্টলাভ হয় এই সব প্রতিপাদন করা হয়েছে। সমস্ত দর্শনের চেয়ে এই দর্শন আকারে বড়ো। শবরস্বামীর সম্প্রদায়ের প্রসিদ্ধ কুমারিলভট্ট ভারতবর্ষ থেকে অবৈদিক বৌদ্ধ মত নির্মূল করে বৈদিকমত স্থাপনের চেষ্টা করেন। মীমাংসা দর্শনের প্রধান দুটো শাখা, একটা কুমারিলভট্টের আর একটা প্রভাকরভট্টের। উত্তর মীমাংসা হচ্ছে বেদান্ত দর্শন। সমস্ত দর্শনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আর সম্মানিত । বেদব্যাস এর কর্তা। এই দর্শনের সূত্রগুলিকে ব্রহ্মসূত্র বলে। এর প্রাচীনভাষ্য হচ্ছে শংকরাচার্যের। এর আগেকার যা ভাষ্য তা পাওয়া ষায়নি। বিখ্যাত ইউরোপীয় পণ্ডিত ডায়োসনের মত যে, শংকর হচ্ছেন পৃথিবীর তিনজন শ্রেষ্ঠ দার্শনিকের মধ্যে একজন, সে তিন জন— প্লেটো, শংকর ও কাণ্ট। শংকর মতের ওপর অসংখ্য বই লেখা হয়েছে আর এখনো হচ্ছে । শংকরের পর ভাস্কর,রামানুজ,মধ্ব,বল্লভাচার্য, নিম্বার্ক, শ্ৰীকণ্ঠ, বলদেব প্রভৃতি নিজ নিজ মতের অনুযায়ী বেদান্তস্থত্রের ভাষ্য লিখেছেন। আবার এই সব বিভিন্ন মতের ভাষ্যের ওপর অজস্র ছোটো ছোটো বই লেখা হয়েছে। এখন ন্যায় শাস্ত্রের কথা আসছে। ন্যায় আর বৈশেষিক যেন দুই ভাই,অনেকটা একরকম। অক্ষপাদ গৌতম লিখেছেন ন্যায়সূত্র, কণাদ উলুক্য লিখেছেন বৈশেষিকসূত্র। বাৎস্যায়ন ন্যায়সূত্রের আর প্রশস্তপাদ লেখেন বৈশেষিকসূত্রের ওপর ভাষ্য। এই দুই দর্শন পড়লে খুব বুদ্ধি খোলে সেইজন্য সাধারণে এই দর্শন অত্যন্ত আদর পায়। অনেক পরে মিথিলার গঙ্গেশপণ্ডিত ন্যায় বৈশেষিককে মিলিয়ে একটা “