পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

দর্শনশাস্ত্র ఏ দার্শনিক মত চালান তাকে বলে নব্য ন্যায়। এই নব্য ন্যায় বাহুদেব সার্বভৌম, রঘুনাথ শিরোমণি, জগদীশ তর্কালংকার প্রভৃতি নদিয়ার পণ্ডিতদের হাতে পড়ে নতুন রূপ ধারণ করে । আর এর উন্নতি এত হয় যে এখনো পর্যন্ত এই ধারণা— যদি নব্য স্তায় পড়া না থাকে তবে সে হাজার সংস্কৃত জানলেও শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত বলে গণ্য নয়। মনে রাখতে হবে এই নব্য ন্যায় স্থষ্টিতে বাঙালির হাত বারো আনা । এ সম্বন্ধে যে কত বই আছে তার সংখ্যা নেই। এই নব্য স্তায়ের ভাষাপরিচ্ছেদ আর তার টীকা সিদ্ধান্ত মুক্তাবলী এমন একখানি বই যে এখানি না পড়লে সংস্কৃত সাহিত্যের যে কোনো বিষয়ের বই ভালো বোঝা যায় না। এই প্রসিদ্ধ সটীক বইখানি বিশ্বনাথ দ্যায়পঞ্চানন লিখে গেছেন । ১৪শ খ্রীস্টাব্দে মাধবাচার্য র্তার সর্বদর্শনসংগ্রহে ১৬টি দর্শনের মত তুলেছেন। তার মধ্যে অবশ্য প্রধান অপ্রধান মত অাছে । অবৈদিক দর্শনকে নাস্তিক মত বলা হয়। এই মতের লোকেরা বেদ মানেন না । চার্বাক প্রভৃতি আচার্যরা আবার কিছুই মানতেন না— যতকাল বেঁচে থাকবে তত কাল যেমন করে হোক সুখে থাকবার চেষ্টা করবে এই তাদের মত। চার্বাকদর্শনের বইপত্র আর পাওয়া যায় না। আবৈদিকমতের যে দুটি প্রবল মত বতর্মান তা হল— জৈন আর বৌদ্ধ । এই জৈনরা শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর ভেদে, আর বৌদ্ধর হীনযান মহাযান ভেদে দুই রকম । কিন্তু এর মধ্যেও ছোটোখাটো অসংখ্য ভেদ আছে । জৈনরা প্রাকৃতভাষায় আর সংস্কৃতভাষায় অনেক বই লিখেছেন। আবার বৌদ্ধরা পালিভাষা আর সংস্কৃত ভাষায় বই লিখেছেন । বিশেষ এই যে হীনযানদের বই পালিতে আর মহাযানদের বই সংস্কৃতে লেখা। হীনযান অবশু মহাযান থেকে প্রাচীন । জৈন্য ভালো ভালো বই দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে লেখা। দ্বাদশ খ্ৰীষ্টাব্দে আচার্য হেমচন্দ্র এদের প্রধান গুরু ছিলেন। তার মতো প্রতিভাশালী লোক সেযুগে আর ছিল না। ২০ • খ্রীস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রীস্টাব্দ পর্যস্ত বৌদ্ধ মতের সংস্কৃত বই লেখা হয়