পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

8 ংস্কৃত সাহিত্যের কথা আছে কাজেই প্রাচীন। খ্ৰীস্টপূর্বাব্দে নটসূত্র রচিত হয়। রস সংগীত অভিনয় প্রভৃতি এতে আলোচিত হয়েছিল। প্রথম খ্রীস্টাব্দে ভরত নাট্যশাস্ত্র সংকলিত হয় । তাতে পূর্ব আচার্যদের মতও তোলা হয়েছে। পরে ভামহ, দণ্ডী রুদ্রট রুষ্যক, ধনিক ভোজরাজ প্রভৃতি পণ্ডিতেরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন । এই জাতীয় বইয়ের নাম অলংকারশাস্ত্র । এই শাস্ত্রে সবচেয়ে বাহাদুরি নিয়েছেন কাশ্মীরী পণ্ডিতেরা, নব্যন্তায় যেমন বাঙালির হাতে গড়া, তেমনি অলংকারশাস্ত্র কাশ্মীরী পণ্ডিতদের হাতে গড়া । কাশ্মীরী পণ্ডিত আনন্দবধন ধ্বনি বলে একটা জিনিস স্বীকার করলেন, সেটা হচ্ছে কথার যা অর্থ, তার থেকেও আলাদা একটা অর্থ যা বোঝা যায় তা । যেমন ‘সূর্যউদয়ে ফুলগুলি হেসে উঠল এই কথাতে যে হাসির কথা আছে তা অচেতন ফুলের পক্ষে খাটে না কাজেই হেসে উঠল মানে ফুটল । আবার অনেক দিন পরে বন্ধু এলে যেমন অন্ত বন্ধুরা আনন্দে হাসতে থাকে তেমনি রাতের পর স্বর্য এলেন, বন্ধুকে অনেকক্ষণ পরে দেখে যেন ফুলগুলি আনন্দ করতে লাগল। এই যে অর্থ এটা হল ধ্বনি । আনন্দবর্ধনের এই মত অনেকে মেনে নিলেন । ধ্বনি সম্প্রদায় স্বল্প হল । আচার্য অভিনব গুপ্ত আনন্দবর্ধনের ধবন্যালোকের ওপর আর ভরত নাট্যশাস্ত্রের ওপর বিখ্যাত টীকা লিখে ধ্বনিসম্প্রদায়কে প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন । এই মতে মম্মট ভট্ট কাব্যপ্রকাশ, বিশ্বনাথ সাহিত্যদর্পণ, পণ্ডিতরাজ জগন্নাথ রসগঙ্গাধর নামে বিখ্যাত গ্রন্থ লিখে গেছেন । ধ্বনি সম্প্রদায়কে বলে নব্য আলংকারিক, আর ভামহ দণ্ডীর মত অবলম্বীকে বলে প্রাচীন আলংকারিক । প্রাচীন মত নব্য মতের কাছে হটে গিয়েছে। রাজশেখরের কাব্যমীমাংসা একখানি এ বিষয়ে অপূর্ব গ্রন্থ, কিন্তু সেখানির বিটা পাওয়া যায়নি। অলংকার শাস্ত্রের টাকা টাল্পনাও যথেষ্ট আছে। দুঃখের বিষয় অলংকারশাস্ত্রের এই অভু্যখানে কাব্য নাটকের উন্নতিতে বিশেষ বাধা পড়ল। কেননা শক্তিশালী লেখকগণও অলংকারের নিদিষ্ট পথ ধরে