পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

২৬ সংস্কৃত সাহিত্যের কথা যো নেই। এই যুগের বিস্ময়ের বিষয় দর্শনশাস্ত্রের ভাষ্যের টীকাগুলি । একে তো দর্শনের ভাষ্য সহজ নয় তাতে এইসব টীকা না হলে অনেক স্থলে তা দুর্বোধ থেকে যেত। টীকাগুলি ভাস্যের মত সুহ্মভাবে বুঝিয়েছেন। ভাষ্যকারদের মতোই টীকাকাররা অসাধারণ প্রতিভাশালী ছিলেন। সংস্কৃত সাহিত্যের মহিমা এদের হাতে তৈরি একথা বললে বেশি কিছু বলা ইয় না । এই সব টীকাকারদের মধ্যে ষড়দর্শনের টীকাকার বাচস্পতি মিশ্র, আর কাব্যের টীকাকার মল্লিনাথ সংস্কৃতভাষায় শ্রেষ্ঠ আর অমর হয়ে রয়েছেন । শেষে কিন্তু টীকাকারদের দুর্নতি ঘটল । তারা নিজেদের পাণ্ডিত্য দেখাতে এত ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে মূলের চেয়ে টীকা অত্যন্ত দুর্বোধ হয়ে দাঁড়াল। তখন আবার টীকার টীকা তস্য টীকার দরকার হল। মূল গেল চেপে । পরে টীকাকাররা আর এই দোষের হাত এড়াতে পারলেন -न1 ।। তাই ভোজরাজ এদের ঠাট্ট করে বলেছেন এরা বইয়ের আসল অর্থকে বাখ্যার চোটে ঘুলিয়ে দেন– “বস্তুবিপ্লবকৃতষ্টীকাকৃত : প্রায়শঃ”। নিবন্ধ ব্যাকরণ অলংকার জ্যোতিষ প্রভৃতি বিষয়ে সংগ্রহ বা রচনা হল নিবন্ধ । গদ্য আর পদ্য দুইয়েই নিবন্ধ রচিত আছে । কেউ কেউ একে প্রকরণও বলে থাকেন। ধারা নগরের রাজা ভোজ ছিলেন বিশেষ বিদ্যোৎসাহী আর হিন্দুদের সংস্কৃতি রক্ষার শেষরাজা । ইনি নানা বিষয়ে বই লিখে গেছেন । তার পরে যখন তুর্কিদের আক্রমণে দেশে বিপ্লব ঘটে সে সময় মূল গ্রন্থ রচনা হ্রাস হয়ে যায়। কিন্তু,বড়ো বড়ো নিবন্ধ রচনা হয়, বিশেষত স্থতি সম্বন্ধে। ঐ সব নিবন্ধে নানা শাস্ত্র থেকে বিধি ব্যবস্থা সংগ্রহ করে তার আলোচনা" করা হয়েছে। বিদেশীর সংঘর্ষে সমাজ তখন বিপন্নপ্রায় কাজেই তার রক্ষার