পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

অন্যান্য বিষয় \צס অন্তর্গত না হলেও অত্যস্ত প্রামাণিক গ্রন্থ। পালিতে কাব্য অলংকার ব্যাকরণু ছন্দ বিষয়েরও বই আছে । পালিতে লেখা বইগুলি হীনযান অর্থাৎ দক্ষিণী বৌদ্ধদের । উত্তর বোত্ত অর্থাৎ মহাযানীদের বই সংস্কৃত ভাষায় লেখা । মহাযানীদের বইয়ের সংখ্য} বিপুল। তার মধ্যে দর্শনের বইগুলি চিন্তায় যুক্তিতে বিচারে অতুলনীয়। একথা বললে বেশি বলা হবে না যে এই সব বৌদ্ধ দর্শনগুলি সামনে থাকাতে আর তারই ঘাতপ্রতিঘাতে হিন্দু দর্শনগুলি বিকাশ লাভ করেছে। অশ্বঘোষ মাতৃচেট, আর্যশূর নাগাজুন আর্যদেব বস্তুবন্ধু অসংগ শাস্তিদেব প্রভৃতি আচার্যগণ মহাযানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য। সংস্কৃতে ব্যাকরণ সাহিত্য অলংকার প্রভৃতি নানা বিষয়ে উৎকৃষ্ট বই রচনা করেছেন মহাযানী আচার্যের । শ্বেতাম্বর আর দিগম্বর ভেদে জৈন সম্প্রদায় দুরকম। এদের মূলগ্রন্থ সব প্রাকৃত ভাষায় লেখা । দু দলের প্রাকৃত দু রকমের । জৈনদের প্রধান বই হল এগার অঙ্গ আর বার উপাঙ্গ। এগার অঙ্গ— আয়ারংগ স্বত্ত ; সুয়গড়ংগ, ঠাণংগ, সমবায়ুংগ, ভগবতী বা বিবিহুপঃত্তি, নায়াধৰ্ম্মকহা, উপাসগদসা, অস্তুগড দস্য, অমৃত্তরোববায়িদসা, পঞ হবাগরণ, বিবাগস্থত্ত । বার উপাঙ্গ— উববায়ি, রায়পসেনি, জীবাভিগম, পল্লবনা, সুরপন্নত্তি, জম্বুদীব-পল্পত্তি চন্দপন্নভি, নিরয়াবলী, কম্পাবংডসিয়া, পুপ্ৰফচুলিয়া, বহ্রিদসা, দসপহয়া । এই অঙ্গ উপাঙ্গ নিয়ে দুই দলে কিছু কিছু ভেদ আছে । জৈন আচার্যগণ আরো অনেক বই প্রাকৃত ও সংস্কৃত উভয় ভাষাতেই লিখে গেছেন । এদের মধ্যে সর্বতোমুখী প্রতিভাবান আচার্য হেমচন্দ্র সুরি। সংস্কৃত সাহিত্যের বিভিন্ন বিভাগে এর লেখা বইগুলি উৎকৃষ্ট ও প্রামাণিক। কুন্দুকুন্দাচাৰ্য, উমাম্বাতি, বিমল সুরি, হরিভদ্র সুরি প্রভৃতি এদের মধ্যে বিখ্যাত।