পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ভাষার বৈশিষ্ট্য সাজসজ্জা মামুষের সংস্কারগত । দেহ-গেহ প্রভৃতিকে মনোরম করবার চেষ্টা মামুষে অক্লাস্তভাবে করে আসছে তখন ভাষাই বা বাদ যাবে কেন । এই ভাষার সাজসজ্জা বিধিতে ধীরে ধীরে গড়ে উঠল অলংকার শাস্ত্রের পথ। একদল শব্দের সাজে আর একদল অর্থের সাজে নিরত হলেন। সাহিত্যের ভালোমন্দ অবশ্য নির্ভর করল অর্থের সাজের ওপর । কিন্তু শব্দ নিয়ে যারা সাজ সজ্জায় লেগেছেন তাদের বাহাদুরিও কম নয়। পণ্ডিতরা এই পথকে উৎকৃষ্ট বলে স্বীকার না করলেও এ কথা বলেছেন যে মনকে হালকা করার জন্যে এই সব শব্দেরসাজওয়ালা কাব্য চাই । এর ফলে দেখা যায় সংস্কৃত ভাষার নমনীয়তা অতি আশ্চর্য। পৃথিবীর আর কোনো ভাষায় এ রকম আছে কি না জানি না । ভাষাকে যে রকম ইচ্ছে সেইরকম চালানো যায়। একই বইয়ে আছে রামায়ণ আর মহাভারতের ঘটনা মিলে মিশে। ইচ্ছে হয় রামায়ণ পড়ে না হয় মহাভারত । সোজা করে শ্লোক পড়লে রামকথা আর উলটো করে পড়লে হবে কৃষ্ণকথাৎ । একদিকে নাটকের পরিশিষ্ট অন্যদিকে পর পর সাজানো ব্যাকরণের সূত্র ও উদাহরণও । একই কাব্য একবার বৈরাগ্য ভাবের আর একবার আদিরসের অর্থে ভরা। এই রকম অজস্র বৈচিত্র্য সংস্কৃত ভাষায় রয়েছে। তারপর হেঁয়ালি প্রভৃতিও কম নয়। এক অক্ষর বা দু অক্ষর দিয়ে শ্লোক তৈরী, সোজা করে পড়লে সংস্কৃত উলটো করে পড়লে প্রাকৃত, নানারকম ছবি একে তার ওপর শ্লোক সাজানো প্রভৃতি হরেক রকম কৌতুকজনক বিষয় রয়েছে। আগেই বলেছি এগুলি কেবল মনোরঞ্জন ও কৌতুকের জন্য রচিত হত। এ প্রসঙ্গে কাদম্বরীর রাজা শুদ্রকের অবসর বিনোদের ব্যাপারে বাণভট্টের বর্ণনা দ্রষ্টব্য। ১ কবিরাজ পণ্ডিতের রাঘব পাগুবীয় ২ . সূর্যস্থরির- রামকৃষ্ণবিলোম কাব্য ৩ কুকানন্মেয়-- অন্তর্ব্যাকরণ নাট্যপরিশিষ্ট