পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ԾՖ সংস্কৃত সাহিত্যের কথা যে কোনো একখানা বইয়ে বিশেষ কিছু দেখলে সমস্ত ভারতের ঘাড়ে তা চাপানো সমালোচকদের পক্ষে অপকাৰ্য । து শত শর্ত বছরের আগেকার বই নিয়ে সমালোচনার সময় সেই সময়কার আবহাওয়া আর ঠিক ঐ সময়ে অন্য দেশের ও সাহিত্যের অবস্থা পাশাপাশি রেখে বিচার করা আবশুক । সংস্কৃত সাহিত্যের আলোচনার পক্ষে তা ঠিক হয়নি। T. দু’তিন হাজার বছর ধরে যে ভাষার ধারা সমানে চলে আসছে যার ধারা কখনো বন্ধ হয়নি তার বিশালতা কতদূর হতে পারে তা সহজে বোঝা যায়। রাষ্ট্রবিপ্লব, উই প্রভৃতি পোকায় ও অযত্বে হাজার হাজার বই নষ্ট হয়ে গেছে । তক্ষশিলা নালান্দা প্রভৃতির বিরাট পুস্তকালয় আক্রমণকারী বিদ্রোহীরা পুড়িয়ে দেয়, তাতেও অজস্র বই নষ্ট হয়ে গেছে। আবার বিদেশী পরিব্রাজক ও রাজরাজড়ারা এমন অনেক বই নিয়ে গেছেন যার অন্য কপি এদেশে নেই। এখনো অনেক ব্রাহ্মণপণ্ডিতের ঘরে দুর্লভ পুথিপত্র নষ্ট হতে বসেছে। এমনিভাবে ধ্বংসের নানা পথ থেকে যে বইগুলি বেঁচে আছে তার একটা সদগতি করার চেষ্টা আজকাল চলছে। তার ফলে অনেক অমূল্য বই পাওয়া যাচ্ছে। একটা উদাহরণ এখানে দেওয়া গেল । শালিহোত্র হচ্ছেন অশ্ববৈদ্য। ঘোড়ার চিকিৎসা সম্বন্ধে তার উৎকৃষ্ট গ্রন্থের উল্লেখ শুধু প্রাচীন টীকাকারদের লেখায় পাওয়া যেত আসল বইখানি পাওয়া যায়নি। একদিন একটা লোক দোকানে কতকগুলি পুরানো কাগজপত্র বিক্রি করতে যায় তার মধ্যে একখানা আন্ত পুথি দেখে একজন, কোনো অধ্যাপককে দেখতে দেন, সেটা কী । অধ্যাপক দেখলেন সেখানা শালিহোত্রের পুথি। তিনি তখনি কিনে এসিয়াটিক সোসাইটিকে দেন তারা ছাপিয়ে বার করেন। তারপর ঐ বইয়ের আর দ্বিতীয় কপি পাওয়া যায়নি। এমনিভাবে অজ্ঞাতে মূখদের হাতে পড়ে অনেক বই চিরদিনের মতে লুপ্ত হয়ে গেছে। যেসব পণ্ডিতমণ্ডলী নানাদিক থেকে উপেক্ষ অবজ্ঞা দারিদ্র্য প্রভৃতি