পাতা:সংস্কৃত সাহিত্যের কথা - নিত্যানন্দ বিনোদ গোস্বামী.pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

२ ংস্কৃত সাহিত্যের কথা কাশী হোলো সংস্কৃত শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। কাশীর কাছেই দেবনগর বলে একটা নগর ছিল সেখানকার অক্ষরই কাশীগ্রান্তের লোকের লিখে থাকেন। জমন পণ্ডিত ম্যাক্সমূগর ঐ দেবনাগরী অক্ষরই সংস্কৃত অক্ষরত্বপে চালিয়ে ষান, এখন সমস্ত ভারত আর তার বাইরেও ঐ অক্ষরই সংস্কৃত ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে । এমন কি দেবনাগরীর নাম সংস্কৃত অক্ষর হয়ে গিয়েছে । এই ব্যাপার এখন থেকে প্রায় একশো বছরের মধ্যে ঘটেছে। সেকালে যানবাহনের এত স্ববিধে ছিল না, আর ডাকেরও এত ব্যাপকতা ছিল না। কাজেই বিরাট ভারতবর্ষে কোথায় কোন পণ্ডিত কোন বই লিখছেন তার খবর বড়ো একটা মিলত না । অথচ সবদেশেই বই লেখা চলছিল । ইংরেজ আমলে নানাদেশের সঙ্গে খবরাখবরের স্ববিধে ঘটায় ইউরোপীয় পণ্ডিতরাই প্রথমে সংস্কৃত বইয়ের খোজ আরম্ভ করেন। ১৮৪ খ্ৰীস্টাব্দে এলফিনস্টোন সাহেব খোজ করে সংস্কৃত বইয়ের যা সংখ্যা পেয়েছিলেন, তাতে তিনি বলেন যে গ্ৰীক আর ল্যাটিন ভাষার সমস্ত বইয়ের মিলিত সংখ্যার চেয়ে সংস্কৃত বইয়ের সংখ্যা বেশি। কিন্তু তখন সংস্কৃত বইয়ের খোজ খুব কমই পাওয়া যায় । এর আগে ১৮৩০ খ্ৰীঃ— ফ্রেডরিশ সাহেব প্রভৃতি মাত্র সাড়ে তিনশো সংস্কৃত বইয়ের খোজ পান। ১৮৫২ খ্ৰীঃ বেবর সাহেব স্বকৃত সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে প্রায় ৫০ • বইয়ের উল্লেখ করেছেন । তারপর তিনি ১৬০০ বইয়ের কথা লিখে যান। এই রকমে খোজের ফলে এলফিনস্টোনের কথিত সংখ্যা বেড়ে চলেছিল। ১৮৯১ খ্ৰীঃ— থিয়োডোর অ্যাউফ্রেক্ট ক্যাটালোগস ক্যাটালোগোরাম নামে একখানি বড়োরকম সংস্কৃত বইয়ের তালিকা তৈরি করেন। তাতে ঐসময় পর্যন্ত মৃত বইয়ের খোজ পাওয়া যায় তার নাম আছে । তার সংখ্যা গিয়ে দাড়াল ৩২••• হাজারে। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ নেপালে রক্ষিত অনেক অজ্ঞাত সংস্কৃত পুস্তকের সন্ধান পান। সেই সব মিলিয়ে সবসুদ্ধ সংস্কৃত বই হোলো চল্লিশ হাজারের ওপর ।