পাতা:সঞ্চয়িতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিদায়-অভিশাপ

২০১

বিকলহৃদয় বিষশশরীর
ডাকিয়া তোমারে কহিব অধীর—
‘কোথা আছ ওগো, করহ পরশ নিকটে আসি।’
কহিবে না কথা, দেখিতে পাব না নীরব হাসি।

 ২৭ অ ১৩০০


বিদায়-অভিশাপ

কচ। দেহো আজ্ঞা, দেবযানী, দেবলোকে দাস 
করিবে প্রয়াণ। আজি গুরুগৃহবাস
সমাপ্ত আমার। আশীর্বাদ করো মোরে
যে বিদ্যা শিখিনু তাহা চিরদিন ধরে
অন্তরে জাজ্বল্য থাকে উজ্জ্বল রতন
সুমেরুশিখরশিরে সূর্যের মতন,
অক্ষয় কিরণ।
দেবযানী। মনোরথ পুরিয়াছে, 
পেয়েছ দুর্লভ বিদ্যা আচার্যের কাছে,
সহস্রবর্ষের তব দুঃসাধ্য সাধনা
সিদ্ধ আজি; আর-কিছু নাহি কি কামনা,
ভেবে দেখো মনে মনে।
কচ আর কিছু নাহি। 
দেবযানী। কিছু নাই? তবু আরবার দেখো চাহি, 
অবগাহি হৃদয়ের সীমান্ত অবধি
করহ সন্ধান; অন্তরের প্রান্তে যদি
কোনো বাঞ্ছা থাকে, কুশের অঙ্কুর-সম
ক্ষুদ্র-দৃষ্টি-অগোচর, তবু তীক্ষ্ণতম।