পাতা:সঞ্চয়িতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২০৬

বিদায়-অভিশাপ

হায় রে দুরাশা!
কচ। চিরজীবনের সনে 
তার নাম গাঁথা হয়ে গেছে।
দেবযানী। আছে মনে— 
যেদিন প্রথম তুমি আসিলে হেথায়
কিশোর ব্রাহ্মণ, তরুণ-অরুণ-প্রায়
গৌরবর্ণ তনুখানি স্নিগ্ধদীপ্তি-ঢালা,
চন্দনে চর্চিত ভাল, কণ্ঠে পুষ্পমালা,
পরিহিত পট্টবাস, অধরে নয়নে
প্রসন্ন সরল হাসি, হোথা পুষ্পবনে
দাঁড়ালে আসিয়া—
কচ। তুমি সদ্য স্নান করি 
দীর্ঘ আর্দ্র কেশজালে নবশুক্লাম্বরী
জ্যোতিস্নাত মূর্তিমতী ঊষা, হাতে সাজি,
একাকী তুলিতেছিলে নব পুষ্পরাজি
পুজার লাগিয়া। কহিনু করি বিনতি,
তোমারে সাজে না শ্রম, দেহো অনুমতি
ফুল তুলে দিব দেবী।
দেবযানী। আমি সবিস্ময় 
সেইক্ষণে শুধানু তোমার পরিচয়।
বিনয়ে কহিলে, আসিয়াছি তব দ্বারে,
তোমার পিতার কাছে শিষ্য হইবারে
আমি বৃহস্পতিসূত।
কচ। শঙ্কা ছিল মনে, 
পাছে দানবের গুরু স্বর্গের ব্রাহ্মণে
দেন ফিরাইয়া।
দেবযানী। আমি গেনু তাঁর কাছে। 
হাসিয়া কহিনু, পিতা, ভিক্ষা এক আছে