পাতা:সঞ্চয়িতা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২১৮

চিত্রা

শুনায় আমারে তারা নব নব গান
নব-অর্থ-ভরা; চিরসুহৃদ্‌সমান
সর্ব চরাচর।

হেথা আমি কেহ নহি,
সহস্রের মাঝে একজন—সদা বহি
সংসারের ক্ষুদ্র ভার, কত অনুগ্রহ
কত অবহেলা সহিতেছি অহরহ।
সেই শতসহস্রের পরিচয়হীন
প্রবাহ হইতে এই তুচ্ছ কর্মাধীন
মোরে তুমি লয়েছ তুলিয়া, নাহি জানি
কী কারণে। অয়ি মহীয়সী মহারানী,
তুমি মোরে করিয়াছ মহীয়ান। আজি
এই-যে আমারে ঠেলি চলে জনরাজি
না তাকায়ে মোর মুখে, তাহারা কি জানে
নিশিদিন তোমার সোহাগসুধাপানে
অঙ্গ মোর হয়েছে অমর? তাহারা কি
পায় দেখিবারে—নিত্য মোরে আছে ঢাকি
মন তব অভিনব লাবণ্যবসনে?
তব স্পর্শ, তব প্রেম, রেখেছি যতনে
তব সুধাকণ্ঠবাণী, তোমার চুম্বন,
তোমার আঁখির দৃষ্টি সর্ব দেহমন
পূর্ণ করি— রেখেছে যেমন সুধাকর
দেবতার গুপ্ত সুধা যুগযুগান্তর
আপনারে সুধাপাত্র করি; বিধাতার
পুণ্য অগ্নি জ্বালায়ে রেখেছে অনিবার
সবিতা যেমন সযতনে; কমলার
চরণকিরণে যথা পরিয়াছে হার