পাতা:সবুজ পত্র (প্রথম বর্ষ)-প্রমথ চৌধুরী.pdf/৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বৈশাখ, ১৩২১
সবুজ পত্ৰ

 যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন যে তবে কি উদ্দেশ্য সাধন করবার জন্য, কি অভাব পূরণ কর্‌বার জন্য, এত কাগজ থাকতে আবার একটি নতুন কাগজ বার করছি—তাহলেও আমাদের নিরুত্তর থাকতে হবে ; কেন না কথা দিয়ে কথা না রাখতে পারাটা সাহিত্য-সমাজেও ভদ্রতার পরিচায়ক নয়। নিজেকে প্ৰকাশ করবার পূর্ব্বে নিজের পরিচয় দেওয়াটা,-শুধু পরিচয় দেওয়া নয়, নিজের গুণগ্ৰাম বৰ্ণনা করাটা,-যদিও মাসিক পত্রের পক্ষে একটা সৰ্ব্বলোকমান্য “সাহিত্যিক” নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবুও সে নিয়ম ভঙ্গ কর্‌তে আমরা বাধ্য। যে কথা বারো মাসে বারো কিস্তিতে রাখ্‌তে হবে, তার যে মাঝে মাঝে খেলাপ হবার সম্ভাবনা নেই—এ জাঁক করবার মত দুঃসাহস আমাদের নেই। তা ছাড়া স্বদেশের কিম্বা স্বজাতির কোনও একটি অভাব পূরণ করা, কোনও একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করা সাহিত্যের কাজও নয়, ধৰ্ম্মও নয় ; সে হচ্ছে কাৰ্য্যক্ষেত্রের কথা । কোনও বিশেষ উদ্দেশ্যকে অবলম্বন করাতে মনের ভিতর যে সঙ্কীর্ণতা এসে পড়ে, সাহিত্যের স্ফুৰ্ত্তির পক্ষে তা অনুকুল নয়। কাজ হচ্ছে দশে মিলে কর্‌বার জিনিষ। দলবদ্ধ হয়ে আমরা সাহিত্য গড়তে পারি নে, গড়তে পারি শুধু সাহিত্য-সম্মিলন। কারণ দশের সাহায্যে ও সাহচর্য্যে কোনও কাজ উদ্ধার করতে হলে, নিজের স্বাতন্ত্র্যটি অনেকটা চেপে দিতে হয়। যদি আমাদের দশজনের মধ্যে মনের চৌদ্দ-আনা মিল থাকে, তাহলে প্ৰতিজনে বাকী দু-আনা বাদ দিয়ে, একত্র হয়ে সকলের পক্ষে সমান বাঞ্ছিত কোনও ফললাভের জন্য চেষ্টা কর্‌তে পারি। এক