দ্বিতীয় প্রবন্ধ । a মঙ্গলের অতীত ব্ৰহ্মজ্ঞান শাস্ত্রে ঠিক থাটে না । যে ব্যক্তি ব্ৰহ্মজ্ঞান চাহে তাহাকে “দুঃখেতে অমুদ্বিগ্নমনা এবং মুখেতে বিগতস্পৃহ” হইতে হইবে। এ স্থলে আপত্তি উঠিতে পারে যে “অথ” শব্দের মঙ্গল অর্থ কোন মতেই উড়াইয়া দিতে পারা যায় না। স্মৃতিতে লেখা আছে * পূৰ্ব্বকালে ওঁ এবং অর্থ এই দুইটী শব্দ ব্রহ্মের কণ্ঠভেদ করিয়া বাহির হইয়াছিল সুতরাং এই উভয় শব্দই মাঙ্গলিক” অতএব “অথ” শব্দের মঙ্গল অর্থ করিতেই হইবে । ইহার উত্তর এই যে অনন্তর ও আরম্ভ অর্থেও অনেক স্থলে “অথ” শব্দের প্রয়োগ দেখা যায় । সুতরাং মঙ্গল অর্থ ভিন্ন “অথ” শব্দের ব্যবহার হয় না এ আপত্তি অকিঞ্চিৎকর। “অথ” শব্দের অর্থ সঙ্কোচ করা উক্ত স্মৃতিবাক্যের বাস্তবিক উদ্দেশ্য নহে। রন্ধন, গৃহপরিষ্করণ, ঘটস্থাপন, প্রভৃতি যে কোন উদ্দেশ্যেই কুম্ভকে বারিপূর্ণ করা যাউক না কেন, পূর্ণকুম্ভ দর্শন মা মই যেমন শুভকর, সেইরূপ (১) আরম্ভ (২) মঙ্গল ও (৩) অনন্তর, এই তিন অর্থের মধ্যে যে কোন অর্থেই “অথ” শব্দ ব্যবহার করা হউক না কেন, পূৰ্ব্বোক্ত স্কৃতিবাক্যবলে “অথ” শব্দের শ্রবণ ও উচ্চারণ মাত্রই মঙ্গলকর । সুতরাং “অথ” শব্দের শ্রবণ ও উচ্চারণ সৰ্ব্বদা সৰ্ব্বত্র মাঙ্গলিক হইলেও যেখানে অর্থ শব্দের যে অর্থ খাটে সেখানে “অথ” শব্দের সেই অর্থই করিতে হইবে । যে ব্যক্তি ব্ৰহ্মজ্ঞান চাহেন তাহাকে মঙ্গলামঙ্গল চিস্তা পরিত্যাগ করিতেই হইবে। সুতরাং “অৰ্থ ব্রহ্মজিজ্ঞান” এই স্থানে “অথ” শব্দের মঙ্গল অর্থ খাটিতেই পারে না। “অথ” শব্দ শ্রবণ ও উচ্চারণ জন্ত যাহা কিছু মঙ্গল হয় হউক কিন্তু ব্ৰহ্মতত্ত্বান্বেষীর সেদিকে লক্ষ্যই থাকে না । অতএব মঙ্গল অর্থ পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক দেখিতে হইবে অন্ত কোন অর্থ এখানে খাটিতে পারে। ইতিপূৰ্ব্বে দেখা গিয়াছে যে “অথ” শব্দের আরম্ভ অর্থও এখানে খাটে না । সুতরাং মঙ্গল ও আরস্ত অর্থ পরিত্যাগ করিয়া এখানে “অথ” শব্দের অর্থ “অনন্তর” বলিতেই হইবে । -
- ওঙ্কারশচাথশব্দশ্চ দ্বাবেতেী ব্রহ্মণঃ পুর। কণ্ঠতিত্ব বিনির্ধাতে ভস্মীয়াঙ্গলিফাবুভৌ৷