দ্বিতীয় প্রবন্ধ । షో এমত বলা যাইতে পারে যে, “ধৰ্ম্ম জানিবার পর, ব্ৰহ্ম জানিবার অধিকারও ইচ্ছা হয়, এই অর্থে “অৰ্থ" শব্দের প্রয়োগ হইয়াছে, কিন্তু সে অর্থও থাটে না । কেন না, কেহ কেহ বৈদিক ধৰ্ম্ম না জানিয়াও কেবল বেদান্ত অর্থাৎ বেদের উপনিষদূ ভাগ পড়িয়াই বা গুরুর উপদেশ শুনিয়াই ব্ৰহ্ম জানিবার অধিকার ও ইচ্ছা প্রাপ্ত হন। কিন্তু বেদান্ত পড়িলেই বা গুরুর উপদেশ শুনিলেই যে ব্ৰহ্ম জানিবার অধিকার ও ইচ্ছা হয়, তাহা ৪ নহে। অনেকে দুই একবার বেদান্ত পড়িলেই বা গুরুর উপদেশ শুনিলেই মনে করেন, “আমি সব বুঝিয়াছি। উহাতে আমার জ্ঞাতব্য বিষয় কিছুই নাই ।” তাহাদের আর ব্রহ্মকে জানিবার ইচ্ছা বা অধিকার হয় না। স্বতরাং যদিও বেদান্তপাঠ এবং গুরূপদেশশ্রবণ ব্ৰহ্মজ্ঞানের অধিকারের একটী দূর কারণ, তথাপি ব্ৰহ্মজ্ঞানের অধিকারের অব্যবহিত কারণ বেদান্ত পাঠ বা গুরূপদেশ শ্রবণ নহে। ব্ৰহ্মজ্ঞানের অধিকার সম্বন্ধে ৮ ভগবদ গীত বলিয়াছেন— যাহার বুদ্ধি বিশুদ্ধ হইয়াছে, ইক্রিয়সকল সম্পূর্ণ ভাবে বিজিত হওয়ায় কোন পদার্থ যাহাকে ধৈৰ্য্যচ্যুত করিতে পারে না, রূপ রস গন্ধ স্পর্শ শব্দে আসক্তি ও দ্বেষ রহিত হওয়ায় যিনি শরীরস্থিতিমান্ত্রোপযোগী পদার্থ ভিন্ন অন্য কোন পদার্থ গ্রহণ করেন না, যিনি নির্জন, পবিত্র, সাধুসেবিত স্থানে অবস্থান করেন, যিনি মিতভোজী, যাহার শরীর, মন ও বাক্য সমস্তই সংযত, যিনি সৰ্ব্বদাই ব্ৰহ্মকে ধ্যান করেন, দৃষ্টাদৃষ্ট সকল বিষয়েই যাহার বৈরাগ্য হইয়াছে, আমি ধাৰ্ম্মিক বা জ্ঞানী, এইরূপ অভিমান, কামরাগাদিযুক্ত বল, সাংসারিক বিষয়ে দৰ্প, ক্রোধ, এবং (শরীর ধারণ ও ধৰ্ম্মানুষ্ঠান নিমিত্ত প্রয়োজনীয় পদার্থে ও) প্রতিগ্রহ পরিত্যাগ করিয়া খিনি নিৰ্ম্মম ও শান্ত হইতে পারেন তিনিই ব্ৰহ্মজ্ঞানের অধিকারী হন। ব্রহ্মজ্ঞানাধিকারী সাধকের মন প্রসন্ন হয়,সৰ্ব্বপ্রকার শোক ও আকাঙ্ক্ষা তিরোহিত হয়, সমস্ত ভূতে সমদৃষ্টি হয়, এবং ব্রহ্মে পরাভক্তি হয়। ব্রন্ধে পরাভক্তি হইলে পর ব্ৰহ্মজ্ঞান হয়, এবং ব্ৰহ্মজ্ঞান হইলেই সাধক ব্রহ্মে নিৰ্ব্বাণ প্রাপ্ত হন। 확
পাতা:সরল বেদান্ত দর্শন.djvu/২১
অবয়ব