পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যবিচার Σ' ο Σ দ্বারাই চরিত্রের বিকাশ। সেই যোগের রহস্তকে আজকাল অংশের বিশ্লেষণ লঙ্ঘন করবার উপক্রম করছে। বুদ্ধদেবের চরিত্রের বিচিত্র উপাদানের মধ্যে কামপ্রবৃত্তিও ছিল, তার যৌবনের ইতিহাস থেকে সেটা প্রমাণ করা সহজ । যেটা থাকে সেটা যায না, গেলে তাতে স্বভাবের অসম্পূর্ণত ঘটে। চরিত্রের পরিবর্তন বা উৎকর্ষ ঘটে বর্জনের দ্বারা নয, যোগের দ্বারা । সেই যোগেব দ্বারা যে পরিচয সমগ্রভাবে প্রকাশমান সেইটেই হল বুদ্ধদেবের চরিত্রগত সত্য। প্রচ্ছন্নতার মধ্য থেকে বিশেষ উপকরণ টেনে বের করে তার সত্য পাওযা যায না । বিশ্লেষণে হীরকে অঙ্গারে প্রভেদ নেই, স্বষ্টির ইন্দ্রজালে আছে। সন্দেশে কার্বন আছে, নাইট্রোজেন আছে, কিন্তু সেই উপকরণের দ্বারা সন্দেশের চরম বিচার করতে গেলে বহুতর বিসদৃশ ও বিস্বাদ পদার্থের সঙ্গে তাকে একশ্রেণীতে ফেলতে হয ; কিন্তু এতে করেই সন্দেশের চরম পরিচয আচ্ছন্ন হয। কার্বন ও নাইট্রোজেন উপাদানের মধ্যে ধরা পড়া সত্ত্বেও জোর করে বলতে হবে যে, সন্দেশ পচা মাংসের সঙ্গে একশ্রেণীভুক্ত হতে পারে না । কেননা, উভযে উপাদানে এক কিন্তু প্রকাশে স্বতন্ত্র। চতুর লোক বলবে, প্রকাশটা চাতুরী ; তার উত্তরে বলতে হয, বিশ্বজগৎটাই সেই চাতুরী। তা হোক, তবু রসভোগকে বিশ্লেষণ করা চলে। মনে করা যাক, আম। যেভাবে সেটা ভোগ্য সেভাবে উদ্ভিদবিজ্ঞানের সে অতীত । ভোগ সম্বন্ধে তার রমণীযতা ব্যাখ্যা করবার উপলক্ষ্যে বলা চলে যে, এই ফলে সব-প্রথমে যেটা মনকে টানে সে হচ্ছে ওর প্রাণের লাবণ্য ; এইখানে সন্দেশের চেযে তার শ্রেষ্ঠতা। আমের যে বর্ণমাধুরী তা জীববিধাতার প্রেরণায আমের অন্তর থেকে উদ্ভাসিত, সমস্ত ফলটির সঙ্গে সে অবিচ্ছেদে এক । চোখ ভোলাবার জন্তে সন্দেশে জাফরান দিযে রঙ ফলানো যেতে পারে— কিন্তু সেটা জড়পদার্থের বর্ণযোজন, প্রাণপদার্থের বর্ণ-উদ্ভাবনা নয। তার সঙ্গে আমের আছে স্পর্শের সোঁকুমাৰ্য, সৌরভের