পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আধুনিক কাব্য X \ } উপর হাত বুলোতে বুলোতে তৃপ্তির সঙ্গে ঠিক সেই একই কথা আপন মনে বলে উঠল, “কী সুন্দর।” কবি বলছেন, শুনে I was mildly abashed সুন্দরী মেযেকেও দেখো, সার্ডিন মাছকেও, একই ভাষায বলতে কুষ্ঠিত হোযো না ‘কী মুন্দর’। এ দেখা নৈর্ব্যক্তিক— নিছক দেখা, এর পংক্তিতে চটিজুতোর দোকানকেও বাদ দেওযা যায না । কাব্যে বিষয়ীর আত্মতা ছিল উনিশ শতাব্দীতে, বিশ শতাব্দীতে বিষযের আত্মতা। এইজন্তে কাব্যবস্তুর বাস্তবতার উপরেই বোক দেওযা হয, অলংকারের উপর নয। কেননা অলংকারটা ব্যক্তির নিজেরই রুচিকে প্রকাশ করে, খাটি বাস্তবতার জোর হচ্ছে বিষযের নিজের প্রকাশের জন্তে । সাহিত্যে আবির্ভাবের পূর্বেই এই আধুনিকতা ছবিতে ভর করেছিল। চিত্রকলা যে ললিতকলার অঙ্গ এই কথাটাকে অস্বীকার করবার জন্যে সে বিবিধপ্রকারে উৎপাত শুরু করে দিলে। সে বললে, আর্টের কাজ মনোহারিতা নয, মনোজফিতা ; তার লক্ষণ লালিত্য নয, যাথার্থ । চেহারার মধ্যে মোহকে মানলে না, মানলে ক্যারেক্টারকে, অর্থাৎ একটা সমগ্রতার আত্মঘোষণাকে । নিজের সম্বন্ধে সেই চেহারা আর-কিছু পরিচয দিতে চায না, কেবল জোরের সঙ্গে বলতে চায ‘আমি দ্রষ্টব্য’। তার এই দ্রষ্টব্যতার জোর হাবভাবের দ্বারা নয, প্রকৃতির নকলনবিশির দ্বারা নয, আত্মগত স্বষ্টিসত্যের দ্বারা। এই সত্য ধৰ্মনৈতিক নয, ব্যবহারনৈতিক নয, ভাবব্যঞ্জক নয, এ সত্য স্মৃষ্টিগত । অর্থাৎ, সে হযে উঠেছে বলেই তাকে স্বীকার করতে হয। যেমন আমরা ময়ূরকে মেনে নিই, শকুনিকেও মানি, শুযোরকে অস্বীকার করতে পারি নে, হরিণকেও তাই। কেউ সুন্দর, কেউ অসুন্দর ; কেউ কাজের, কেউ অকাজের ; কিন্তু স্বষ্টির ক্ষেত্রে কোনো ছুতোয কাউকে বাতিল করে দেওয অসম্ভব ।