পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> > ९ সাহিত্যের পথে সাহিত্যে চিত্রকলাতেও সেইরকম। কোনো রূপের স্মৃষ্টি যদি হযে থাকে তো আর কোনো জবাবদিহি নেই ; যদি না হযে থাকে, যদি তার সত্তার জোর না থাকে, শুধু থাকে ভাবলালিত্য, তা হলে সেটা বর্জনীয। এইজন্তে আজকের দিনে যে সাহিত্য আধুনিকের ধর্ম মেনেছে, সে সাবেক কালের কৌলীদ্যের লক্ষণ সাবধানে মিলিযে জাত বাচিযে চলাকে অবজ্ঞা করে, তার বাছবিচার নেই। এলিযটের কাব্য এইরকম হালের কাব্য, ব্রিজেসের কাব্য তা নয। এলিযট লিখছেন— এ ঘরে ও ঘরে যাবার রাস্তাষ সিদ্ধ মাংসর গন্ধ, তাই নিযে শীতের সন্ধ্যা জমে এল । এখন ছ’টা— ধোয়াটে দিন, পোড়া বাতি, শেষ অংশে ঠেকল । বাদলের হাওয়া পাযের কাছে উড়িযে আনে পুড়ে জমি থেকে স্থলমাখা শুকনে পাত আর ছেড়া খবরের কাগজ। ভাঙা শার্সি আর চিমনির চোঙের উপর বৃষ্টির ঝাপট লাগে, আর রাস্তার কোণে এক দাড়িযে এক ভাড়াটে গাড়ির ঘোডা— ভাপ উঠছে তার গা দিযে আর সে মাটিতে ঠুকছে খুর। তার পরে বাসি বিয়ার-মদের গন্ধওয়ালা কাদামাখা সকালের বর্ণনা। এই সকালে একজন মেযের উদ্দেশে বলা হচ্ছে— বিছানা থেকে তুমি ফেলে দিযেছ কম্বলটা, চীৎ হযে পড়ে অপেক্ষা করে আছ, কখনো ঝিমচ্ছ, দেখছ রাত্রিতে প্রকাশ পাচ্ছে হাজার খেলো খেযালের ছবি যা দিযে তোমার স্বভাব তৈরি ।