পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S X 8 সাহিত্যের পথে ঘুটে কুড়োচ্ছে পোড়ে জমি থেকে। এই ঘুটে-কুড়োনো বুড়ো সংসারটার প্রতি কবির অনভিরুচি স্পষ্টই দেখা যায়। সাবেক কালের সঙ্গে প্রভেদটা এই যে, রঙিন স্বপ্ন দিযে মনগড় সংসারে নিজেকে ভুলিযে রাখার ইচ্ছেটা নেই। কবি এই কাদা-ঘাটাঘাটির মধ্যে দিযেই কাব্যকে হাটিয়ে নিয়ে চলেছেন, ধোপদেওয়া কাপড়টার উপর মমতা না করে। কাদার উপর অনুরাগ আছে ব’লে নয়, কিন্তু কাদার সংসারে চোখ চেয়ে কাদাটাকেও জানতে হবে, মানতে হবে ব’লেই। যদি তার মধ্যেও অ্যাপলোর হাসি কোথাও ফোটে সে তো ভালোই, যদি নাও ফোটে তা হলে ব্যাঙের লম্ফমান অট্টহাস্তটাকে উপেক্ষা করবার প্রযোজন নেই। ওটাও একটা পদার্থ তো বটে— এই বিশ্বের সঙ্গে মিলিযে ওর দিকেও কিছুক্ষণ চেযে দেখা যায, এর তরফেও কিছু বলবার আছে। সুসজ্জিত ভাষার বৈঠকখানায ঐ ব্যাঙটাকে মানাবে না, কিন্তু অধিকাংশ জগৎসংসার ঐ বৈঠকখানার বাইরে । সকালবেলায প্রথম জাগরণ । সেই জাগরণে প্রথমটা নিজের উপলব্ধি, চৈতন্তের নূতন চাঞ্চল্য। এই অবস্থাটাকে রোম্যান্টিক বলা যায। সদ্যজাগা চৈতন্য বাইরে নিজেকে বাজিযে দেখতে বেরোষ । মন বিশ্বস্বষ্টিতে এবং নিজের রচনায নিজের চিস্তাকে নিজের বাসনাকে রূপ দেয। অন্তরে যেটাকে চায বাইরে সেটাকে নানা মাযা দিযে গড়ে । তার পরে আলো তীব্র হয, অভিজ্ঞতা কঠোর হতে থাকে, সংলারের আন্দোলনে অনেক মায়াজাল ছিন্ন হযে যায । তখন অনাবিল আলোকে অনাবৃত আকাশে পরিচয ঘটতে থাকে স্পষ্টতর বাস্তবের সঙ্গে। এই পরিচিত বাস্তবকে ভিন্ন কবি ভিন্ন রকম করে অভ্যর্থনা করে। কেউ দেখে একে অবিশ্বাসের চোখে বিদ্রোহের ভাবে, কেউ-বা একে এমন অশ্রদ্ধা করে যে এর প্রতি রূঢ়ভাবে নির্লজ্জ ব্যবহার করতে কুষ্ঠিত হয