পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আধুনিক কাব্য Y } & না । আবার খর আলোকে অতিপ্রকাশিত এর যে আকৃতি তারও অন্তরে কেউ-বা গভীর রহস্য উপলব্ধি করে, মনে করে না গুঢ় ব’লে কিছুই নেই, মনে করে না যা প্রতীযমান তাতেই সব-কিছু নিঃশেষে ধরা পড়ছে। গত যুরোপীয যুদ্ধে মানুষের অভিজ্ঞতা এত কর্কশ এত নিষ্ঠুর হযেছিল, তার বহুযুগপ্রচলিত যত-কিছু আদব ও আক্ৰ তা সাংঘাতিক সংকটের মধ্যে এমন অকস্মাৎ ছারখার হয়ে গেল, দীর্ঘকাল যে সমাজস্থিতিকে একান্ত বিশ্বাস করে সে নিশ্চিন্ত ছিল তা এক মুহূর্তে দীর্ণবিদীর্ণ হযে গেল ; মানুষ যে-সকল শোভনরীতি কল্যাণনীতিকে আশ্ৰয করেছিল তার বিধ্বস্ত রূপ দেখে এতকাল যা-কিছুকে সে ভদ্র ব’লে জানত তাকে দুর্বল ব’লে, আত্মপ্রতারণার কৃত্রিম উপায ব’লে অবজ্ঞা করাতেই যেন সে একটা উগ্র আনন্দ বোধ করতে লাগল— বিশ্বনিন্দুকতাকেই সে সত্যনিষ্ঠত ব’লে আজ ধরে নিযেছে। কিন্তু আধুনিকতার যদি কোনো তত্ত্ব থাকে, যদি সেই তত্ত্বকে নৈর্ব্যক্তিক আখ্যা দেওযা যায, তবে বলতেই হবে, বিশ্বের প্রতি এই উদ্ধত অবিশ্বাস ও কুৎসার দৃষ্টি এও আকস্মিক বিপ্লবজনিত একটা ব্যক্তিগত চিত্তবিকার । এও একটা মোহ, এর মধ্যেও শাস্ত নিরাসক্ত চিত্তে বাস্তবকে সহজভাবে গ্রহণ করবার গভীরতা নেই। অনেকে মনে করেন, এই উগ্রতা, এই কালাপাহাড়ি তালঠোকাই আধুনিকতা। আমি তা মনে করি নে। ইনফ্লুযেঞ্জা আজ হাজার হাজার লোককে আক্রমণ করলেও বলব না ইনফ্লুযেঞ্জাটাই দেহের আধুনিক স্বভাব। এই বাহ। ইনফ্লুযেঞ্জাটার অন্তরালেই আছে সহজ দেহস্বভাব । আমাকে যদি জিজ্ঞাসা কর বিশুদ্ধ আধুনিকতাটা কী, তা হলে আমি বলব, বিশ্বকে ব্যক্তিগত আসক্তভাবে না দেখে বিশ্বকে নিবিকার তদগতভাবে দেখা। এই দেখাটাই উজ্জল, বিশুদ্ধ ; এই মোহমুক্ত