পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আধুনিক কাব্য Y S ^ একটি বধুর কথা— আমার ছাটা চুল ছিল খাটো, তাতে কপাল ঢাকত না। আমি দরজার সামনে খেলা করছিলুম, তুলছিলুম ফুল। তুমি এলে আমাব প্রিয, বাশের খেলা-ঘোড়ায চ’ড়ে কাচা কুল ছড়াতে ছড়াতে । চাংকানের গলিতে আমরা থাকতুম কাছে কাছে। আমাদের বযস ছিল অল্প, মন ছিল আনন্দে ভরা । তোমার সঙ্গে বিযে হল যখন আমি পডলুম চোদ্দষ। এত লজ্জা ছিল যে হাসতে সাহস হত না, অন্ধকার কোণে থাকতুম মাথা হেঁট করে, তুমি হাজার বার ডাকলেও মুখ ফেবাতুম না। পনেরো বছরে পড়তে আমার ভুরূকুটি গেল ঘুচে, আমি হাসলুম। আমি যখন ষোলো তুমি গেলে দূর প্রবাসে— চুটাঙের গিরিপথে, ঘূর্ণিজল আর পাথরের ঢিবির ভিতর দিযে। পঞ্চম মাস এল, আমার আর সহ্য হয় না । আমাদের দরজার সামনে রাস্ত দিযে তোমাকে যেতে দেখেছিলুম, সেখানে তোমার পাযের চিহ্ন সবুজ শুাওলায চাপা পড়ল— সে শু্যাওলা এত ঘন যে বাট দিযে সাফ করা যায না । অবশেষে শরতের প্রথম হাওয়ায় তার উপরে জমে উঠল ঝরা পাতা । এখন অষ্টম মাস, হলদে প্রজাপতিগুলো আমাদের পশ্চিম-বাগানের ঘাসের উপর ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। আমার বুক যে ফেটে যাচ্ছে, ভয় হয় পাছে আমার রূপ যায় মান হয়ে । ওগে, যখন তিনটে জেলা পার হয়ে তুমি ফিয়বে