পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$ 3 bo সাহিত্যের পথে আগে থাকতে আমাকে খবর পাঠাতে ভুলো না। চাংফেংশার দীর্ঘ পথ বেযে আমি আসব, তোমার সঙ্গে দেখা হবে । দুর বলে একটুও ভয করব না। এই কবিতাষ সেন্টিমেন্টের মুর একটুও চড়ানো হয নি, তেমনি তার পরে বিদ্রুপ বা অবিশ্বাসের কটাক্ষপাত দেখছি নে। বিষযটা অত্যন্ত প্রচলিত, তবু এতে রসের অতাব নেই। স্টাইল বেঁকিযে দিযে একে ব্যঙ্গ করলে জিনিসটা আধুনিক হত। কেননা সবাই যাকে অনাযাসে মেনে নেয আধুনিকের কাব্যে তাকে মানতে অবজ্ঞা করে। খুব সম্ভব আধুনিক কবি ঐ কবিতার উপসংহারে লিখত, স্বামী চোখের জল মুছে পিছন ফিরে তাকাতে তাকাতে চলে গেল, আর মেযেটি তখনই লাগল শুকনো চিংড়িমাছের বডা ভাজতে । কার জন্তে । এই প্রশ্নের উত্তরে দেড় লাইন ভরে ফুটকি। সেকেলে পাঠক জিজ্ঞাসা করত, ‘এটা কী হল |’ একেলে কবি উত্তর করত, ‘এমনতরো হযেই থাকে।’ ‘অন্তটাও তো হয।’ ‘হ্য বটে, কিন্তু বডো বেশি ভদ্র। কিছু দুৰ্গন্ধ না থাকলে ওব শৌখিন ভাব ঘোচে না, আধুনিক হয না। সেকেলে কাব্যের বাবুগিরি ছিল সৌজন্যের সঙ্গে জড়িত। একেলে কাব্যেরও বাবুগিরি আছে, সেটা পচা মাংসের বিলাসে। চীনে কবিতাটিব পাশে বিলিতি কবিদের আধুনিকতা সহজ ঠেকে না। সে আবিল। তাদের মনটা পাঠককে কচুই দিযে ঠেলা মারে । তারা যে বিশ্বকে দেখছে এবং দেখাচ্ছে সেটা ভাঙন-ধরা, রাবিশ-জমা, ধুলো-ওড়া। ওদের চিত্ত যে আজ অসুস্থ, অমুখী, অব্যবস্থিত। এ অবস্থায বিশ্ববিষয থেকে ওরা বিশুদ্ধভাবে নিজেকে ছাডিযে নিতে পারে না। ভাঙা প্রতিমার কাঠ খড দেখে ওরা অট্টহাস্ত করে ; বলে, আসল জিনিসটা এতদিনে ধরা পডেছে । সেই ঢেলা সেই কাঠখডগুলোকে খোচা মেরে কড়া কথা বলাকেই ওরা বলে খাটি সত্যকে জোরের