পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আধুনিক কাব্য ՏՏ ծ এই কবিতার মধ্যে আধুনিকতার ব্যঙ্গকটাক্ষ বা অট্টহাস্ত নেই, বরঞ্চ কিছু করুণার আভাস আছে। কিন্তু এর মধ্যে একটা নীতিকথা আছে, সেটা আধুনিক নীতি। সে হচ্ছে এই যে, যা সুস্থ ব’লে সুন্দর ব’লে প্রতীযমান তার অন্তরে কোথাও একটা সাংঘাতিক রোগ হযতে আছে। যাকে ধনী ব’লে মনে হয তার পর্দার আড়ালে লুকিযে বসে আছে উপবাসী। যারা সেকেলে বৈরাগ্যপন্থী উারাও এইভাবেই কথা বলেছেন । যারা বেঁচে আছে তাদের তারা মনে করিযে দেন, একদিন বঁাশের দোলায চড়ে শ্মশানে যেতে হবে। যুরোপীয সন্ন্যাসীউপদেষ্টার বর্ণনা করেছেন মাটির নীচে গলিত দেহকে কেমন করে পোকায খাচ্ছে। যে দেহকে সুন্দর ব’লে মনে করি সে যে অস্থিমাংসরসরক্তের কদর্য সমাবেশ সে কথা স্মরণ করিযে দিযে আমাদের চটুকী ভাঙিযে দেবার চেষ্টা নীতিশাস্ত্রে দেখা গেছে। বৈরাগ্যসাধনার পক্ষে প্রকৃষ্ট উপায এইরকম প্রত্যক্ষ বাস্তবের প্রতি বারে বারে অশ্রদ্ধা জন্মিযে দেওযা। কিন্তু কবি তো বৈরাগীর চেলা নয, সে তো অনুরাগেরই পক্ষ নিতে এসেছে। কিন্তু এই আধুনিক যুগ কি এমনি জরাজীর্ণ যে, সেই "কবিকেও লাগল শ্মশানের হাওযা— এমন কথা সে খুশি হযে বলতে শুরু করেছে, যাকে মহৎ ব’লে মনে করি সে ঘুণে-ধরা, যাকে সুন্দর ব’লে আদর করি তারই মধ্যে অস্পৃশ্যতা ? মন যাদের বুড়িযে গেছে তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ স্বাভাবিকতার জোর নেই। সে মন অশুচি অসুস্থ হযে ওঠে। বিপরীত পন্থায সে মন নিজের অসাড়তাকে দূর করতে চায, গাজিযে-ওঠা পচা জিনিসের মতো যতকিছু বিকৃতি নিযে সে নিজেকে ঝাঝিযে তোলে, লজ্জা এবং ঘূণা ত্যাগ করে তবে তার বলিরেখাগুলোর মধ্যে হাসির প্রবাহ বইতে পারে। মধ্য-ভিক্টোরীয় যুগ বাস্তবকে সম্মান করে তাকে শ্রদ্ধেযরূপেই অনুভব করতে চেযেছিল, এ যুগ বাস্তবকে অবমানিত করে সমস্ত আক্র