পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৩ সাহিত্যতত্ত্ব আমি আছি এবং আর-সমস্ত আছে, আমার অস্তিত্বের মধ্যে এই যুগল মিলন। আমার বাইরে কিছুই যদি অনুভব না করি তবে নিজেকেও অনুভব করি নে। বাইরের অনুভূতি যত প্রবল হয অন্তরের সত্তা-বোধও তত জোর পায । আমি আছি, এই সত্যটি আমার কাছে চরম মূল্যবান। সেইজন্য যাতে আমার সেই বোধকে বাডিযে তোলে তাতে আমার আনন্দ । বাইরের যে-কোনো জিনিসের পরে আমি উদাসীন থাকতে পারি নে, যাতে আমার ঔৎসুক্য, অর্থাৎ যা আমার চেতনাকে জাগিযে রাখে, সে যতই তুচ্ছ হোক, তাতেই মন হয খুশি, তা সে হোক-না ঘুড়ি-ওড়ানো, হোক-না লাটিম-ঘোরানো । কেননা, সেই আগ্রহের আঘাতে আপনাকেই অত্যন্ত অনুভব করি । আমি আছি এক, বাইরে আছে বহু। এই বহু আমার চেতনাকে বিচিত্র করে তুলছে, আপনাকে নানা-কিছুর মধ্যে জানছি নানা ভাবে। এই বৈচিত্র্যের দ্বারা আমার আত্মবোধ সর্বদ উৎসুক হযে থাকে। বাইরের অবস্থা একঘেযে হলে মানুষকে মন-মরা করে । শাস্ত্রে আছে, এক বললেন, বহু হব । নানার মধ্যে এক আপন ঐক্য উপলব্ধি করতে চাইলেন। একেই বলে স্বষ্টি । আমাতে যে এক আছে সেও নিজেকে বহুর মধ্যে পেতে চায, উপলব্ধির ঐশ্বর্য সেই তার বহুলত্বে । আমাদের চৈতন্তে নিরস্তর প্রবাহিত হচ্ছে বহুর ধারা, রূপে রসে নানা ঘটনার তরঙ্গে ; তারই প্রতিঘাতে স্পষ্ট করে তুলছে ‘আমি আছি? এই বোধ। আপনার কাছে আপনার প্রকাশের এই স্পষ্টতাতেই আনন্দ । অস্পষ্টতাতেই অবসাদ । একলা কারাগারের বন্দীর আর-কোনো পীড়ন যদি নাও থাকে