পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৪ সাহিত্যের পথে তবু আবছায়া হয়ে আসে তার আপনার বোধ, সে যেন নেই-হওয়ার কাছাকাছি আসে। আমি আছি এবং ন-আমি আছে, এই দুই নিরস্তর ধারা আমার মধ্যে ক্রমাগতই একীভূত হয়ে আমাকে স্বষ্টি করে চলেছে ; অন্তর-বাহিরের এই সম্মিলনের বাধায় আমার আপন-স্বষ্টিকে কৃশ বা বিকৃত করে দিলে নিরানন্দ ঘটায়। এইখানে তর্ক উঠতে পারে যে, আমির সঙ্গে না-আমির মিলনে দুঃখেরও তো উদ্ভব হয়। তা হতে পারে। কিন্তু এটা মনে রাখা চাই যে, সুখেরই বিপরীত দুঃখ, কিন্তু আনন্দের বিপরীত নয ; বস্তুত দুঃখ আনন্দেরই অন্তর্ভুত। কথাটা শুনতে স্বতোবিরুদ্ধ, কিন্তু সত্য। যা হোক, এ আলোচনাটা আপাতত থাকৃ, পরে হবে। আমাদের জানা দু রকমের, জ্ঞানে জানা আর অনুভবে জানা । অনুভব শব্দের ধাতুগত অর্থের মধ্যে আছে অন্ত-কিছুর অনুসারে হযে ওঠা ; শুধু বাইরে থেকে সংবাদ পাওযা নয, অন্তরে নিজেরই মধ্যে একটা পরিণতি ঘটা । বাইরের পদার্থের যোগে কোনো বিশেষ রঙে, বিশেষ রসে, বিশেষ রূপে আপনাকেই বোধ করাকে বলে অনুভব করা। সেইজন্তে উপনিষদ বলেছেন, পুত্রকে কামনা করি বলেই যে পুত্র আমাদের প্রিয তা নয, আপনাকেই কামনা করি বলেই পুত্র আমাদের প্রিয়। পুত্রের মধ্যে পিতা নিজেকেই উপলব্ধি করে, সেই উপলব্ধিতেই আনন্দ। আমরা যাকে বলি সাহিত্য, বলি ললিতকলা, তার লক্ষ্য এই উপলব্ধির আনন্দ, বিষয়ের সঙ্গে বিষয়ী এক হয়ে যাওয়াতে যে আনন্দ্র। অনুভূতির গভীরতা-দ্বারা বাহিরের সঙ্গে অস্তরের একাত্মবোধ যতটা সত্য হয় সেই পরিমাণে জীবনে আনন্দের সীমানা বেড়ে চলতে থাকে, অর্থাৎ নিজেরই সত্তার সীমানা। প্রতিদিনের ব্যাবহারিক ব্যাপারে ছোটো ছোটো ভাগের মধ্যে আমাদের আত্মপ্রসারণকে অবরুদ্ধ করে, মনকে বেঁধে রাখে বৈষয়িক সংকীর্ণতায়, প্রয়োজনের সংসারটা আমাদের আপনাকে ধিরে রাখে