পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব ১২৫ কড়া পাহারায় ; অবরোধের নিত্য-অভ্যাসের জড়তায় ভুলে যাই যে, নিছক বিষয়ী মানুষ অত্যন্তই কম মানুষ— সে প্রয়োজনের কাচি-ছাট মানুষ । প্রয়োজনের দাবি প্রবল এবং তা অসংখ্য। কেননা, যতটা আয়োজন আমাদের জরুরি তা আপন পরিমাণ রক্ষা করে না । অভাব মোচন হয়ে গেলেও তৃপ্তিহীন কামনা হাত পেতে থাকে, সঞ্চয়ের ভিড় জমে, সন্ধানের বিশ্রাম থাকে না। সংসারের সকল বিভাগেই এই-যে ‘চাই চাই’এর হাট বসে গেছে এরই আশেপাশে মানুষ একটা ফাক খোজে যেখানে তার মন বলে চাই নে’, অর্থাৎ এমন-কিছু চাই নে যেটা লাগে সঞ্চয়ে । তাই দেখতে পাই, প্রয়োজনের এত চাপের মধ্যেও মানুষ অপ্রয়োজনের উপাদান এত প্রভূত করে তুলেছে, অপ্রয়োজনের মূল্য তার কাছে এত বেশি। তার গৌরব সেখানে, ঐশ্বর্য সেখানে, যেখানে সে প্রয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে । বলা বাহুল্য, বিশুদ্ধ সাহিত্য অপ্রযোজনীয় ; তার যে রস সে অহৈতুক। মানুষ সেই দায়মুক্ত বৃহৎ অবকাশের ক্ষেত্রে কল্পনার সোনার কাঠি -ছোওয়া সামগ্রীকে জাগ্রত করে জানে আপনারই সত্তায় । তার সেই অনুভবে অর্থাৎ আপনারই বিশেষ উপলব্ধিতে তার আনন্দ। এই আনন্দ দেওয়া ছাড়া সাহিত্যের অন্য কোনো উদ্দেশু আছে ব’লে জানি নে । লোকে বলে, সাহিত্য যে আনন্দ দেয় সেটা সৌন্দর্যের আনন। সে কথা বিচার করে দেখবার যোগ্য। সৌন্দর্যরহস্তকে বিশ্লেষণ করে ব্যাখ্যা করবার অসাধ্য চেষ্টা করব না । অনুভূতির বাইরে দেখতে পাই, সৌন্দর্য অনেকগুলি তথ্যমাত্রকে অর্থাৎ ফ্যাক্টসকে অধিকার করে আছে । সেগুলি সুন্দরও নয় অসুন্দরও নয়। গোলাপের আছে বিশেষ আকারআয়তনের কতকগুলি পাপড়ি, বোটা ; তাকে ঘিরে আছে সবুজ পাতা।