পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


వీక్షిe সাহিত্যের পথে ঘড়া হয় আমাদের অনামীয়। মানুষ তাকে মুন্ধর করে গড়ে তুলল। জলবহনের জন্য সৌন্দর্যের কোনো অর্থই নেই। কিন্তু এই শিল্পসৌন্দর্য প্রয়োজনের রূঢ়তার চারি দিকে ফঁাকা এনে দিল । যে ঘড়াকে দাষে পড়ে মেনেছিলেম, নিলেম তাকে আপন করে। মানুষের ইতিহাসে আদিম যুগ থেকেই এই চেষ্টা। প্রযোজনের জিনিসকে সে অপ্রযোজনের মূল্য দেয, শিল্পকলার সাহায্যে বস্তুকে পরিণত করে বস্তুর অতীতে । সাহিত্যস্থষ্টি শিল্পস্থষ্টি সেই প্রলযলোকে যেখানে দায নেই, ভার নেই, যেখানে উপকরণ মাযা, তার ধ্যানরূপটাই সত্য – যেখানে মানুষ আপনাতে সমস্ত আত্মসাৎ করে আছে । কিন্তু বস্তুকে দাযে পডে মেনে নিযে তার কাছে মাথা হেঁট করা কাকে বলে যদি দেখতে চাও তবে ঐ দেখো কেরোসিনের টিনে ঘটস্থাপনা ; বঁাকের দুই প্রান্তে টিনের ক্যানেস্তা বেঁধে জল আনা । এতে অভাবের কাছেই মানুষের একান্ত পরাভব। যে মানুষ সুন্দর কবে ঘড বানিযেছে সে ব্যক্তি তাড়াতাডি জলপিপাসাকেই মেনে নেয নি, সে যথেষ্ট সময নিযেছে নিজের ব্যক্তিত্বকে মানতে । বস্তুর পৃথিবী ধূলোমাটি পাথর লোহায ঠাসা হযে পিওঁীকৃত। বায়ুমণ্ডল তার চার দিকে বিরাট অবকাশ বিস্তার করেছে। এরই পরে তার আত্মপ্রকাশের ভূমিকা। এইখান থেকে প্রাণের নিশ্বাস বহমান ; সেই প্রাণ অনির্বচনীয। সেই প্রাণশিল্পকারের তুলি এইখান থেকেই আলো নিযে, রঙ নিযে, তাপ নিযে, চলমান চিত্রে বার বার ভরে দিচ্ছে পৃথিবীর পট। এইখানে পৃথিবীর লীলার দিক, এইখানে তার স্বষ্টি, এইখানে তার সেই ব্যক্তিরূপের প্রকাশ যাকে বিশ্লেষণ করা যায না, ব্যাখ্যা করা যায না— যার মধ্যে তার বাণী, তার যাথার্থ্য, তার রস, তার শু্যামলতা, তার হিল্লোল। মানুষও নানা জরুরি কাজের দায পেরিযে চাষ আপন আকাশমণ্ডল, যেখানে তার অবকাশ, যেখানে বিনা প্রযোজনের