পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব }షిత লীলায় আপন স্বষ্টিতে আপনাকে প্রকাশই তার চরম লক্ষ্য— যে স্থষ্টিতে জানানয, পাওযা নয, কেবল হওযা। পূর্বেই বলেছি, অমৃতব মানেই হওয়া। বাহিরের সত্তার অভিঘাতে সেই হওযার বোধে বান ডেকে এলে মন স্বষ্টিলীলায উদ্‌বেল হযে ওঠে। আমাদের হৃদযবোধের কাজ আছে জীবিকানির্বাহের প্রযোজনে। আমরা আত্মরক্ষা করি, শক্র হনন করি, সন্তান পালন করি ; আমাদের হৃদযৰ্বত্তি সেই সকল কাজে বেগ সঞ্চার করে, অভিরুচি জাগায। এই সীমাটুকুর মধ্যে জন্তুর সঙ্গে মানুষের প্রভেদ নেই। প্রভেদ ঘটেছে সেইখানেই যেখানে মানুষ আপন হৃদযামুভূতিকে কর্মের দায থেকে স্বতন্ত্র করে নিযে কল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে দেয, যেখানে অনুভূতির রসটুকুই তার নিঃস্বার্থ উপভোগের লক্ষ্য, যেখানে আপন অনুভূতিকে প্রকাশ করবার প্রেরণায ফললাভের অত্যাবশুকতাকে যে বিস্তৃত হযে যায। এই মাহষই যুদ্ধ করবার উপলক্ষ্যে কেবল অস্ত্রচালনা করে না, যুদ্ধের বাজনা বাজায, যুদ্ধের নাচ নাচে । তার হিংস্রতা যখন নিদারুণ ব্যবসাযে প্রস্তুত তখনও সেই হিংস্রতার অনুভূতিকে ব্যবহারের উর্ধের্ব নিযে গিযে তাকে অনাবশুক রূপ দেয়। হযতো সেটা তার সিদ্ধিলাভে ব্যাঘাত করতেও পারে। শুধু নিজের স্বষ্টিতে নয, বিশ্বস্বষ্টিতে সে আপন অনুভূতির প্রতীক খুঁজে বেডায । তাব ভালোবাসা ফেরে ফুলেব বনে, তার ভক্তি তীর্থযাত্রা করতে বেরোষ সাগরসংগমে পর্বতশিখরে । সে আপন ব্যক্তিরূপের দোসরকে পায বস্তুতে নয, তত্ত্বে নয। লীলামযকে সে পায আকাশ যেখানে নীল, শুামল যেখানে নবদুর্বাদল। ফুলে যেখানে সৌন্দর্য, ফলে যেখানে মধুরতা, জীবের প্রতি যেখানে আছে করুণ, ভূমার প্রতি যেখানে আছে আত্ননিবেদন, সেখানে বিশ্বের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত সম্বন্ধের চিরন্তন যোগ অনুভব করি হৃদযে। একেই বলি বাস্তব, যে বাস্তবে সত্য হযেছে আমার আপন । o