পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব 〉\9〉 যা বলতে যাই তা সত্যে পৌছয না। বিশ্বস্বষ্টিতেও তাই। সেখানে বস্তু বা জাগতিক শক্তির তথ্য হিসাবে কড়াক্রাস্তির এদিক-ওদিক হবার জো নেই। কিন্তু সৌন্দর্য তথ্যসীমা ছাপিযে ওঠে ; তার হিসাবের আদর্শ নেই, পরিমাণ নেই। উর্ধ্ব আকাশের বাযুস্তরে ভাসমান বাষ্পপুঞ্জ একটা সামান্ত তথ্য কিন্তু উদযাস্তকালের স্বর্যরশ্মির স্পর্শে তার মধ্যে যে অপরূপ বর্ণলীলার বিকাশ হ্য সে অসামান্ত, সে ‘ধূমজ্যোতিঃসলিলমন্তাং সন্নিপাত মাত্র নয, সে যেন প্রকৃতির একটা অকারণ অত্যুক্তি, একটা পরিমিত বস্তুগত সংবাদবিশেষকে সে যেন একটা অপরিমিত অনির্বচনীযতাষ পরিণত করে দেয। ভাষার মধ্যেও যখন প্রবল অনুভূতির সংঘাত লাগে তখন তা শব্দার্থের আভিধানিক সীমা লঙ্ঘন করে। এইজন্তে সে যখন বলে ‘চবণনখবে পডি দশ চাদ কাদে’ তখন তাকে পাগলামি বলে উডিযে দিতে পাবি নে। এইজন্য সংসারের প্রাত্যহিক তথ্যকে একান্ত যথাযথভাবে আর্টেব বেদিব উপরে চড়ালে তাকে লজ্জা দেওযা হয। কেননা আর্টের প্রকাশকে সত্য করতে গেলেই তার মধ্যে অতিশযতা লাগে, নিছক তথ্যে তা স্য না । তাকে যতই ঠিকঠাক করে বলা যাক-না, শব্দের নির্বাচনে, ভাষায, ভঙ্গিতে, ছন্দের ইশারায এমন-কিছু থাকে যেটা সেই ঠিকঠাককে ছাডিযে গিযে ঠেকে সেইখানে যেটা অতিশয। তথ্যেব জগতে ব্যক্তিস্বরূপ হচ্ছে সেই অতিশয। কেজে ব্যবহারের সঙ্গে সৌজন্যের প্রভেদ ঐখানে ; কেজো ব্যবহারে হিসেব-করা কাজের তাগিদ, সৌজন্তে আছে সেই অতিশয যা ব্যক্তিপুরুষের মহিমার ভাষা । প্রাচীন গ্রীসের প্রাচীন রোমের সভ্যতা গেছে অতীতে বিলীন হযে। যখন বেঁচে ছিল তাদের বিস্তর ছিল বৈষযিকতার দায । প্রযোজনগুলি ছিল নিরেট নিবিড গুরুভার ; প্রবল উদ্‌বেগ প্রবল উদ্যম