পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩৬ সাহিত্যের পথে শূন্ততার ব্যথা চলে যায, কেননা বেদনীয পুরুষের বোধ পূর্ণতার বোধ, শূন্ততার বোধের বিরুদ্ধ। এই আধ্যাক্সিক সাধনার কথাটাকেই সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামিযে আনা চলে। জীবনে শূন্যতাবোধ আমাদের ব্যথা দেয, সত্তাবোধের স্নানতায সংসারে এমন-কিছু অভাব ঘটে যাতে আমাদের অনুভূতির সাড়া জাগে না, যেখানে আমাদের ব্যক্তিবোধকে জাগ্রত রাখবার মতো এমন কোনো বাণী নেই যা স্পষ্ট ভাষায বলছে ‘আমি আছি। বিরহের শূন্ততায যখন শকুন্তলার মন অবসাদগ্ৰস্ত তখন তার দ্বারে উঠেছিল ধ্বনি, “অযমহং ভোঃ।’ এই-যে আমি আছি। সে বাণী পৌছল না তার কানে, তাই উার অন্তরাত্মা জবাব দিল না,“এই-যে আমিও আছি। দুঃখের কারণ ঘটল সেইখানে। সংসারে ‘আমি আছি’ এই বাণী যদি স্পষ্ট থাকে তা হলেই আমার আপনার মধ্য থেকে তার নিশ্চিত উত্তর মেলে, “আমি আছি।” ‘আমি আছি? এই বাণী প্রবল সুরে ধবনিত হয কিসে। এমন সত্যে যাতে রস আছে পূর্ণ। আপন অন্তরে ব্যক্তিপুরুষকে নিবিড় করে অনুভব করি, যখন আপন বাইরে গোচর হযেছে রসাত্মক রূপ। তাই বাউল গেযে বেড়িযেছে— আমি কোথায পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে । কেননা, আমার মনের মানুষকেই একান্ত করে পাবার জন্তে পরম মাহুষকে চাই, চাই তং বেদ্যং পুরুষং ; তা হলে শূন্তত ব্যথা দেয না । আমাদের পেট ভরাবার জন্তে— জীবনযাত্রার অভাব মোচন করবার জন্যে আছে নানা বিদ্যা, নানা চেষ্টা ; মানুষের শূন্ত ভরাবার জন্তে, তার মনের মানুষকে নানা ভাবে নানা রসে জাগিযে রাখবার জন্তে আছে তার সাহিত্য, তার শিল্প। মানুষের ইতিহাসে এর স্থান কী বৃহৎ, এর পরিমাণ কী প্রভূত। সভ্যতার কোনো প্রলয-ভূমিকম্পে যদি এর বিলোপ