পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব ۹ رنا (ا সম্ভব হয তবে মানুষের ইতিহাসে কী প্রকাণ্ড শূন্তত কালে মরুভূমির মতো ব্যাপ্ত হয়ে যাবে। তার কৃষ্টির ক্ষেত্র আছে তার চাষে বাসে আপিসে কারখানায ; তার সংস্কৃতির ক্ষেত্র সাহিত্যে— এখানে তার আপনারই সংস্কৃতি, সে তাতে আপনাকেই সম্যকৃরূপে করে তুলছে, সে আপনিই হযে উঠছে। ঐতরেয ব্রাহ্মণ তাই বলেছেন : আত্মসংস্কৃতির্বাব শিল্পানি । ক্লাসঘরের দেযালে মাধব আর-এক ছেলের নামে বডো বডো অক্ষরে লিখে রেখেছে ‘রাখালটা বাদর’। খুবই রাগ হযেছে। এই রাগের বিষযের তুলনায অন্ত সকল ছেলেই তার কাছে অপেক্ষাকৃত অগোচর। অস্তিত্ব হিসাবে রাখাল যে কত বডো হযেছে তা অক্ষরের ছাদ দেখলেই বোঝা যাবে। মাধব আপন স্বল্প শক্তি অনুসারে আপন রাগের অনুভূতিকে আপনার থেকে ছাডিযে নিযে সেইটে দিযে দেযালের উপর এমন-একটা কালো অক্ষরের রূপ স্বষ্টি করেছে যা খুব বডে করে জানাচ্ছে মাধব রাগ করেছে, যা মাধব চাচ্ছে সমস্ত জগতের কাছে গোচর করতে। ঐটেকে একটা গীতিকবিতার বামন-অবতার বলা যেতে পারে। মাধবের অন্তরে যে অপরিণত পঙ্গু কবি আছে, রাখালের সঙ্গে বানরের উপমার বেশি তার কলমে আর এগোল না। বেদব্যাস ঐ কথাটাই লিখেছিলেন মহাভারতের পাতায শকুনির নামে। তার ভাষা স্বতন্ত্র, তা ছাড়া তার ক্যলার অক্ষর মুছবে না যতই চুনকাম করা যাক। পুরাতত্ত্ববিদ নানা সাক্ষ্যের জোরে প্রমাণ করে দিতে পারেন, শকুনি নামে কোনো ব্যক্তি কোনো কালেই ছিল না। আমাদের বুদ্ধিও সে কথা মানবে, কিন্তু আমাদের প্রত্যক্ষ অনুভূতি সাক্ষ্য দেবে সে নিশ্চিত আছে। ভাড় দত্তও বাদর বই-কি, কবিকঙ্কণ সেটা কালো অক্ষরে ঘোষণা করে দিযেছেন। কিন্তু এই বঁাদরগুলোর উপরে আমাদের যে অবজ্ঞার ভাব আসে সেই ভাবটাই উপভোগ্য ।