পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$86 সাহিত্যের পথে গা গা করে রেগে ওঠে ডেকে, গাযে দাগ কে দিযেছে একে । টে কিশালে মাসি ধান ভানে, বাঘ এসে দাড়ালো সেখানে । পাকিযে ভীষণ দুই গোফ বলে, ‘চাই গ্লিসেরিন সোপ !’ ছোটো মেযে চোখ দুটো মস্ত করে ই করে শোনে। আমি বলি, ‘আজ এই পর্যন্ত।’ সে অস্থির হযে বলে, “না, বলো, তার পরে। সে নিশ্চিত জানে, সাবানের চেযে, যারা সাবান মাখে বাঘের লোভ তাদেরই পরে বেশি। তবু এই সম্পূর্ণ আজগবি গল্প তার কাছে সম্পূর্ণ বাস্তব, প্রাণীবৃত্তান্তের বাঘ তার কাছে কিছুই না। ঐ আযনা-দেখা খেপা বাঘকে তার সমস্ত মনপ্রাণ একান্ত অনুভব করাতেই সে খুশি হযে উঠছে। একেই বলি মনের লীলা, কিছুই না নিযে তার স্বষ্টি, তার আনন্দ । সুন্দরকে প্রকাশ করাই রসসাহিত্যের একমাত্র লক্ষ্য নয, সে কথা পূর্বেই বলেছি। সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতায একটা স্তর আছে, সেখানে সৌন্দর্য খুবই সহজ। ফুল সুন্দর, প্রজাপতি সুন্দর, ময়ূর সুন্দর। এ সৌন্দর্য একতলাওযালা, এর মধ্যে সদর-অন্দরের রহস্য নেই, এক নিমেষেই ধরা দেয, সাধনার অপেক্ষ রাখে না । কিন্তু এই প্রাণের কোঠায যখন মনের দান মেশে, চরিত্রের সংস্রব ঘটে, তখন এর মহল বেডে যায, তখন সৌন্দর্যের বিচার সহজ হয না। যেমন মানুষের মুখ। এখানে শুধু চোখে চেযে সরাসরি রায দিতে গেলে ভুল হবার আশঙ্কা। সেখানে সহজ আদর্শে যা অসুন্দর তাকেও মনোহর বলা অসম্ভব নয। এমনকি, সাধারণ সৌন্দর্যের চেযেও তার আনন্দজনকত হযতো গভীরতর। ঠুংরির টপ্পা শোনবামাত্র মন চঞ্চল হযে থাকে, টোড়ির চৌতাল চৈতন্যকে গভীরতায উদ্বুদ্ধ করে। ললিতলবঙ্গলতাপরিশীলন মধুর হতে পারে,