পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব S8) কিন্তু বসন্তপুষ্পাভরণং বহন্তী” মনোহর। একটা কানের, আর-একটা মনের ; একটাতে চরিত্র নেই, লালিত্য আছে— আর-একটাতে চরিত্রই প্রধান। তাকে চিনে নেবার জন্তে অনুশীলনের দরকার করে। যাকে সুন্দর বলি তার কোঠা সংকীর্ণ, যাকে মনোহর বলি তবহুদূরপ্রসারিত। মন ভোলাবার জন্তে তাকে অসামান্ত হতে হয না, সামান্ত হযেও সে বিশিষ্ট । যা আমাদের দেখা অভ্যস্ত, ঠিক সেইটেকেই যদি ভাষায আমাদের কাছে অবিকল হাজির করে দেয তবে তাকে বলব সংবাদ । কিন্তু আমাদের সেই সাধারণ অভিজ্ঞতার জিনিসকেই সাহিত্য যখন বিশেষ করে আমাদের সামনে উপস্থিত করে তখন সে আসে অভূতপূর্ব হযে, সে হ্য সেই একমাত্র, আপনাতে আপনি স্বতন্ত্র । সন্তানস্নেহে কর্তব্যবিস্মৃত মানুষ অনেক দেখা যায, মহাভারতের ধৃতরাষ্ট্র আছেন সেই অতিসাধারণ বিশেষণ নিযে। কিন্তু রাজ্যাধিকারবঞ্চিত এই অন্ধ রাজা কবিলেখনীর নানা স্বক্ষ স্পর্শে দেখা দিযেছেন সম্পূর্ণ একক হযে। মোটা গুণটা নিযে র্তার সমজাতীয লোক অনেক আছে, কিন্তু জগতে ধৃতরাষ্ট্র অদ্বিতীয ; এই মানুষের একান্ততা তার বিশেষ ব্যবহারে নয, কোনো আংশিক পরিচযে নয, সমগ্রভাবে । কবির স্বষ্টিমন্ত্রে প্রকাশিত এই তার অনন্তসদৃশ স্বকীয রূপ প্রতিভার কোন্‌ সহজ নৈপুণ্যে সম্পূর্ণ হযে উঠেছে, ক্ষুদ্র সমালোচকের বিশ্লেষণী লেখনী তার অন্ত পাবে না । সংসারে অধিকাংশ পদার্থ প্রত্যক্ষত আমাদের কাছে সাধারণশ্রেণী-ভুক্ত। রাস্ত দিযে হাজার লোক চলে ; তারা যদিচ প্রত্যেকেই বিশেষ লোক তবু আমার কাছে তারা সাধারণ মানুষমাত্র, এক বৃহৎ সাধারণতার আস্তরণে তারা আবৃত, তারা অস্পষ্ট । আমার আপনার কাছে আমি সুনিশ্চিত, আমি বিশেষ। অন্য কেউ যখন তার বিশিষ্টত নিযে আসে তখন তাকে আমারই সমপর্যাযে ফেলি, আনন্দিত হই ।