পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8న్చీ সাহিত্যের পথে একটা কথা স্পষ্ট করা দরকার। আমার ধোবা আমার কাছে নিশ্চিত সত্য সন্দেহ নেই, এবং তার অনুবর্তী যে বাহন সেও । ধোবা বলেই পূর্বে অন্যত্র এক জায়গায় বলেছি যে, যে-কোনো পদার্থের সঙ্গে আমাদের ব্যবহারের সম্বন্ধই প্রধান সে পদার্থ সাধারণশ্রেণীভুক্ত হয়ে যায়, তার বিশিষ্টতা আমাদের কাছে অগোচর হয়ে পড়ে। কবিতায় প্রবেশ করতে সজ নেফুলের বিলম্ব হয়েছে এই কারণেই, তাকে জানি ভোজ্য ব’লে একটা সাধারণ ভাবে ; চালতাফুল এখনও কাব্যের দ্বারের কাছেও এসে পৌছয় নি। জামরুলের ফুল শিরীষফুলের চেয়ে অযোগ্য নয় ; কিন্তু তার দিকে যখন দৃষ্টিপাত করি তখন সে আপন চরম রূপে প্রকাশ পায় না, তার পরপর্যায়ের খাদ্য ফলেরই পূর্বপরিচয়রূপে তাকে দেখি। তার নিজেরই বিশিষ্টতার ঘোষণা যদি তার মধ্যে মুখ্য হত তা হলে সে এতদিনে কাব্যে আদর পেত। মুরগি পাখির সৌন্দর্য বঙ্গসাহিত্যে কেন যে অস্বীকৃত সে কথা একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে। আমাদের চিত্ত এদেরকে নিজেরই স্বরূপে দেখে না, অন্তকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে তার দ্বারা আবৃত করে দেখে । ধারা আমার কবিতা পড়েছেন তাদের কাছে পুনরুক্তি হলেও একটা খবর এখানে বলা চলে। ছিলেম মফস্বলে, সেখানে আমার এক চাকর ছিল, তার বুদ্ধি বা চেহারা লক্ষ্য করবার যোগ্য ছিল না। রাত্রে বাড়ি চলে যায়, সকালে এসে ঝাড়ন কাধে কাজকর্ম করে । তার প্রধান গুণ, সে কথা বেশি বলে না । সে যে আছে সে তথ্যটা অনুভব করলুম যেদিন সে হল অনুপস্থিত। সকালে দেখি, স্নানের জল তোলা হয় নি, ঝাড়পোছ বন্ধ। এল বেলা দশটার কাছাকাছি । বেশ একটু রূঢ়স্বরে জিজ্ঞাসা করলুম, কোথায় ছিলি। সে বললে, “আমার