পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব 38U) মেয়েট মারা গেছে কাল রাতে।’ বলেই ঝাড়ন নিযে নিঃশব্দে কাজে লেগে গেল। বুকটা ধকূ করে উঠল। ভূত্যরূপে যে ছিল প্রযোজনীযতার আবরণে ঢাকা তার আবরণ উঠে গেল ; মেযের বাপ ব’লে তাকে দেখলুম, আমার সঙ্গে তার স্বরূপের মিল হযে গেল ; সে হল প্রত্যক্ষ, সে হল বিশেষ । সুন্দরের হাতে বিধাতার পাসপোর্ট আছে, সর্বত্রই তার প্রবেশ সহজ। কিন্তু এই মোমিন মিঞা, একে কী বলব। সুন্দর বলা তো চলে না। মেষের বাপও তো সংসারে অসংখ্য, সেই সাধারণ তথ্যটা সুন্দরও না অসুন্দরও না। কিন্তু সেদিন ককণরসের ইঙ্গিতে গ্রাম্য মানুষটা আমার মনের মানুষের সঙ্গে মিলল, প্রযোজনের বেড়া অতিক্রম করে কল্পনার ভূমিকায মোমিন মিঞা আমার কাছে হল বাস্তব। লক্ষপতির ঘরে মেজো মেযেব বিবাহ। এমন ধুম পাডার অতিবৃদ্ধেরাও বলে অভূতপূর্ব। তার ঘোষণার তরঙ্গ খবরের কাগজের সংবাদবীথিকায উদ্‌বেল হযে উঠেছে। জনশ্রুতির কোলাহলে ঘটনাটা যতই গুরুতর প্রতিভাত হোক, তবু এই বহুব্যযসাধ্য বিপুল সমারোহেও ব্যাপারটাকে ‘মেযের বিযে’-নামক সংবাদের নিতান্ত সাধারণত থেকে উপরে তুলতে পারে না। সামযিক উন্মুখরতার জোরে এ স্মরণীয হযে ওঠে না । কিন্তু ‘কন্যার বিবাহ’-নামক অত্যন্ত সাধারণ ঘটনাকে তার সামযিক ও স্থানিক আত্মপ্রচারের আশুমানতা থেকে যদি কোনো কবি র্তার ভাষায ছন্দে দীপ্তিমান সাহিত্যের সামগ্ৰী করে তোলেন তা হলে প্রতিদিনের হাজার-লক্ষ মেযের বিবাহের কুহেলিকা ভেদ করে এ দেখা দেবে একটি অদ্বিতীয মেযের বিবাহরূপে, যেমন বিবাহ কুমারসম্ভবের উমার, যেমন বিবাহ রঘুবংশের ইন্দুমতীর । সাংকোপাঞ্জা ডস্কুইকুসোটের ভূত্যমাত্র, সংসারের প্রবহমান তথ্যপুঞ্জের মধ্যে তাকে তর্জমা করে দিলে সে চোখেই পড়বে না— তখন হাজার-লক্ষ চাকরের সাধারণ