পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S 88 সাহিত্যের পথে শ্রেণীর মাঝখানে তাকে সনাক্ত করবে কে। ডম্বকুইকৃসোটের চাকর আজ চিরকালের মানুষের কাছে চিরকালের চেনা হয়ে আছে, সবাইকে দিচ্ছে তার একান্ত প্রত্যক্ষতার আনন্দ ; এ পর্যন্ত ভারতের যতগুলি বড়োলাট হয়েছে তাদের সকলের জীবনবৃত্তান্ত মেলালেও এ চাকরটির পাশে তারা নিম্প্রভ। বড়ো বড়ো বুদ্ধিমান রাজনীতিকের দল মিলে অস্ত্রলাঘবব্যাপার নিয়ে যে বাদবিতণ্ডা তুলেছেন তথ্যহিসাবে সে একটা মস্ত তথ্য, কিন্তু যুদ্ধে পঙ্গু একটিমাত্র সৈনিকের জীবন যে বেদনায জড়িত তাকে মুস্পষ্ট প্রকাশমান করতে পারলে সকল কালের মানুষ— রাষ্ট্রনীতিকের গুরুতর মন্ত্রণা-ব্যাপারের চেযে তাকে প্রধান স্থান দেবে। এ কথা নিশ্চিত জানি, যে সমযে শকুন্তলা রচিত হযেছিল তখন রাষ্ট্রিক আর্থিক অনেক সমস্ত উঠেছিল যার গুরুত্ব তখনকার দিনে অতি প্রকাণ্ড উদ্‌বেগ-রূপে ছিল, কিন্তু সে-সমস্তের আজ চিহ্নমাত্র নেই, আছে শকুন্তলা । মানবের সামাজিক জগৎ দু্যলোকের ছাযাপথের মতো । তার অনেকখানিই নানাবিধ অবচ্ছিন্ন তত্ত্বের অর্থাৎ অ্যাবৃস্ট্র্যাকৃশনের বহুবিস্তৃত নীহারিকায অবকীর্ণ ; তাদের নাম হচ্ছে— সমাজ, রাষ্ট্র, নেশন, বাণিজ্য এবং আরও কত-কী। তাদের রূপহীনতার কুহেলিকায ব্যক্তিগত মানবের বেদনাময বাস্তবতা আচ্ছন্ন। যুদ্ধ-নামক একটিমাত্র বিশেষ্যের তলায হাজার হাজার ব্যক্তিবিশেষের হৃদযদাহকর দুঃখের জলন্ত অঙ্গার বাস্তবতার অগোচরে ভস্মাবৃত। নেশন-নামক একটা শব্দ চাপ দিযেছে যত পাপ ও বিভীষিকা তার আবরণ তুলে দিলে মাহুষের জন্তে লজ্জা রাখবার জাযগা থাকে না । সমাজ-নামক পদার্থ যত বিচিত্ররকমের মুঢ়তা ও দাসত্বশৃঙ্খল গড়েছে তার স্পষ্টতা আমাদের চোখ এড়িয়ে থাকে, কারণ, সমাজ একটা অবচ্ছিন্ন তত্ত্ব, তাতে মানুষের বাস্তবতার বোধ আমাদের মনে অসাড় করেছে— সেই অচেতনতার বিরুদ্ধে লড়তে হযেছে রামমোহন রাষকে, বিদ্যাসাগরকে । ধর্ম-শব্দের