পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যতত্ত্ব > 80. মোহযবনিকার অন্তরালে যে-সকল নিদারুণ ব্যাপার সাধিত হয়ে থাকে তাতে সকল শাস্ত্রে বর্ণিত সকল নরকের দণ্ডবিধিকে ক্লাস্ত করে দিতে পারে। ইস্কুলে ক্লাস-নামক একটা অবচ্ছিন্ন তত্ত্ব আছে, সেখানে ব্যক্তিগত ছাত্র অগোচর থাকে শ্রেণীগত সাধারণতার আড়ালে ; সেই কারণে যখন তাদের মন-নামক সজীব পদার্থ মুখস্থ বিদ্যার পেষণে গ্রন্থের পাতার মধ্যে পিষ্ট ফুলের মতে শুকোতে থাকে, আমরা থাকি উদাসীন। গবর্মেন্টের আমলাতন্ত্ৰ-নামক অবচ্চিন্ন তত্ত্ব মানুষের ব্যক্তিগত সত্যবোধের বাহিরে, সেইজন্ত রাষ্ট্রশাসনের হৃদয়সম্পর্কহীন নামের নীচে প্রকাণ্ড আযতনের নির্দযতা কোথাও বাধে না । মানবচিত্তের এই-সকল বিরাট অসাড়তার নীহারিকাক্ষেত্রে বেদনাবোধের বিশিষ্টতাকে সাহিত্য দেদীপ্যমান করে তুলেছে। রূপে সেইসকল স্মৃষ্টি সসীম, ব্যক্তিপুরুষের আত্মপ্রকাশে সীমাতীত। এই ব্যক্তিপুরুষ মানুষের অন্তরতম ঐক্যতত্ত্ব, এই মানুষের চরম রহস্ত। এ তার চিত্তের কেন্দ্র থেকে বিকীর্ণ হযে বিশ্বপরিধিতে পরিব্যাপ্ত— আছে তার দেহে, কিন্তু দেহকে উত্তীর্ণ হযে ; আছে তার মনে, কিন্তু মনকে অতিক্রম ক’রে ; তার বর্তমানকে অধিকার করে অতীত ও ভবিষ্যতের উপকুলগুলিকে ছাপিযে চলেছে। এই ব্যক্তিপুরুষ প্রতীযমানরূপে যে সীমায অবস্থিত সত্যরূপে কেবলই তাকে ছাডিযে যায, কোথাও থামতে চায না । তাই এ আপন সত্তার প্রকাশকে এমন রূপ দেবার জন্তে উৎকণ্ঠিত যে রূপ আনন্দময, যা মৃত্যুহীন । সেই-সকল রূপস্যষ্টিতে ব্যক্তির সঙ্গে বিশ্বের একাত্মতা । এই-সকল স্থষ্টিতে ব্যক্তিপুরুষ পরমপুরুষের বাণীর প্রত্যুত্তর পাঠাচ্ছে, যে পরমপুরুষ আলোকহীন তথ্যপুঞ্জের অভ্যন্তর থেকে আমাদের দৃষ্টিতে আপন প্রকাশকে নিরস্তর উদ্ভাসিত করেছেন সত্যের অসীম রহস্তে, সৌন্দর্যের অনির্বচনীযতাষ । ১৩৪ o ভাদ্র У о