পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


}89 সাহিত্যের তাৎপর্য উদ্ভিদের দুই শ্রেণী, ওষধি আর বনস্পতি। ওষধি ক্ষণকালের ফসল ফলাতে ফলাতে ক্ষণে জন্মায, ক্ষণে মরে। বনস্পতির আযু দীর্ঘ, তার দেহ বিচিত্ররূপে আকৃতিবান, শাখাযিত তার বিস্তার। ভাষার ক্ষেত্রেও প্রকাশ দুই শ্রেণীর। একটাতে প্রতিদিনের প্রযোজন সিদ্ধ হতে হতে তা লুপ্ত হযে যায, ক্ষণিক ব্যবহারের সংবাদ বহনে তার সমাপ্তি আর-একটাতে প্রকাশের পরিণাম তার নিজের মধ্যেই । সে দৈনিক আগুপ্ৰযোজনের ক্ষুদ্র সীমায নিঃশেষিত হতে হতে মিলিযে যায না । সে শাল-তমালেরই মতো, তার কাছ থেকে দ্রুত ফসল ফলিযে নিযে তাকে বরখাস্ত করা হয না। অর্থাৎ, বিচিত্র ফুলে ফলে পল্লবে শাখায কাণ্ডে, ভাবের এবং রূপের সমবাযে, সমগ্রতায সে আপনার অস্তিত্বেরই চরম গৌরব ঘোষণা করতে থাকে স্থায়ী কালের বৃহৎ ক্ষেত্রে। এ’কেই আমরা ব’লে থাকি সাহিত্য । ভাষার যোগে আমবা পরস্পরকে তথ্যগত সংবাদ জানাচ্ছি, তা ছাড জানাচ্ছি ব্যক্তিগত মনোভাব। ভালো লাগছে, মন্দ লাগছে, রাগ করছি, ভালোবাসছি, এটা যথাস্থানে ব্যক্ত না কবে থাকতে পাবি নে। মুক পশুপাখিরও আছে অপরিণত ভাষা; তাতে কিছু আছে ধ্বনি, কিছু আছে ভঙ্গি ; এই ভাষায তারা পরস্পরের কাছে কিছু খবরও জানায, কিছু ভাবও জানায। মানুষের ভাষা তার এই প্রযোগসীমা অনেক দূরে ছাড়িযে গেছে। সন্ধান ও যুক্তির জোরে তথ্যগত সংবাদ পরিণত হযেছে বিজ্ঞানে। হবামাত্র তার প্রাত্যহিক ব্যক্তিগত বন্ধন ঘুচে গেল। যে জগৎটা “আমি আছি’ এইমাত্র বলে আপনাকে জানান দিযেছে, মানুষ তাকে নিযে বিরাট জ্ঞানের জগৎ রচনা করলে। বিশ্বজগতে মানুষের যে যোগটা ছিল ইন্দ্ৰিযবোধের দেখাশোনায, সেইটেকে জ্ঞানের যোগে