পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের তাৎপর্য ኃ 8ግ বিশেষভাবে অধিকার করে নিলে সকল দেশের সকল কালের মানুষের বুদ্ধি। ভাবপ্রকাশের দিকেও মানুষের সেই দশা ঘটল। তার খুশি, তার দুঃখ, তার রাগ, তার ভালোবাসাকে মানুষ কেবলমাত্র প্রকাশ করল তা নয, তাকে প্রকাশের উৎকর্ষ দিতে লাগল ; তাতে সে আগু-উদবেগের প্রবর্তন ছাডিযে গেল, তাতে মানুষ লাগালে ছন্দ, লাগালে মুর, ব্যক্তিগত বেদনাকে দিলে বিশ্বজনীন রূপ। তার আপন ভালো মন্দ লাগার জগৎকে অন্তরঙ্গভাবে সকল মানুষের সাহিত্যজগৎ কবে নিলে । সাহিত্য শব্দটার কোনো ধাতুগত অর্থব্যাখ্যা কোনো অলংকারশাস্ত্রে আছে কি না জানি না। ঐ শব্দটার যখন প্রথম উদৃভাবন হযেছিল তখন ঠিক কী বুঝে হযেছিল তা নিশ্চিত বলবার মতো বিদ্যা আমার নেই। কিন্তু আমি যাকে সাহিত্য বলে থাকি তার সঙ্গে ঐ শব্দটার অর্থের মিল করে যদি দেখাই তবে তাতে বোধ করি দোষ হবে না। সাহিত্যের সহজ অর্থ যা বুঝি সে হচ্ছে নৈকট্য অর্থাৎ সম্মিলন। মানুষকে মিলতে হয নানা প্রযোজনে, আবার মানুষকে মিলতে হয কেবল মেলবারই জন্তে, অর্থাৎ সাহিত্যেরই উদ্দেশে । শাকসবৃজির খেতের সঙ্গে মানুষের যোগ ফসল-ফলানোর যোগ । ফুলের বাগানের সঙ্গে যোগ সম্পূর্ণ পৃথক জাতের। সবজি-খেতের শেষ উদ্বেগু খেতের বাইরে, সে হচ্ছে ভোজ্যসংগ্রহ। ফুলের বাগানের যে উদ্দেশু তাকে এক হিসাবে সাহিত্য বলা যেতে পারে। অর্থাৎ, মন তার সঙ্গে মিলতে চায— সেখানে গিযে বসি, সেখানে বেড়াই, সেখানকার সঙ্গে যোগে মন খুশি হয । এর থেকে বুঝতে পারি, ভাষার ক্ষেত্রে সাহিত্য শব্দের তাৎপর্য কী । তার কাজ হচ্ছে হৃদযের যোগ ঘটানো, যেখানে যোগটাই শেষ লক্ষ্য। ব্যাবসাদার গোলাপজলের কারখানা করে, শহরের হাটে বিক্রি করতে পাঠায ফুল। সেখানে ফুলের সৌন্দর্যমহিমা গৌণ, তার বাজার