পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮌ8Ꮏ সাহিত্যের পথে দরের হিসাবটাই মুখ্য। বলা বাহুল্য, এই হিসাবটাতে আগ্রহ থাকতে পারে কিন্তু রস নেই। ফুলের সঙ্গে অহৈতুক মিলনে এই হিসাবের চিন্তাটা আড়াল তুলে দেয। গোলাপজলের কারখানাটা সাহিত্যের সামগ্রী হল না । হতেও পারে কবির হাতে, কিন্তু মালেকের হাতে নষ । সে অনেক দিনের কথা, বোটে চলেছি পদ্মায । শরৎকালের সন্ধ্যা । স্বর্য মেঘস্তবকের মধ্যে র্তার শেষ ঐশ্বর্যের সর্বস্ব-দান পণ করে সদ্য অস্ত গেছেন । আকাশের নীরবতা অনির্বচনীয শাস্ত রসে কানায কানায পূর্ণ ; ভরা নদীতে কোথাও একটু চাঞ্চল্য নেই ; স্তন্ধ চিকণ জলের উপর সন্ধ্যাভ্রের নানা বর্ণের দীপ্তিচ্ছাযা মান হযে মিলিযে আসছে। পশ্চিম দিকের তীরে দিগন্তপ্রসারিত জনশূন্ত বালুচর প্রাচীন যুগান্তরের অতিকায সরীস্থপের মতো পডে আছে। বোট চলেছে অন্ত পারের প্রান্ত বেযে, ভাঙন-ধরা খাড়া পাড়ির তলা দিযে দিযে ; পাড়ির গাযে শত শত গর্তে গাঙশালিকের বাসা ; হঠাৎ একটা বডো মাছ জলের তলা থেকে ক্ষণিক কলশব্দে লাফ দিযে উঠে বঙ্কিম ভঙ্গিতে তখনই তলিযে গেল । আমাকে চকিত আভাসে জানিযে দিযে গেল এই জলযবনিকার অন্তরালে নিঃশব্দ জীবলোকে নৃত্যপর প্রাণের আনন্দেব কথা, আর সে যেন নমস্কার নিবেদন কবে গেল বিলীযমান দিনাস্তের কাছে । সেই মুহূর্তেই তপসিমাঝি চাপা আক্ষেপের সুরে সনিশ্বাসে বলে উঠল, “ও: । মস্ত মাছটা । মাছটা ধরা পড়েছে আর সেটা তৈরি হচ্ছে রান্নার জন্তে, এই ছবিটাই তার মনে জেগে উঠল, চার দিকের অন্য ছবিটা খণ্ডিত হযে দূরে গেল সরে। বলা যেতে পারে, বিশ্বপ্রকৃতির সঙ্গে তার সাহিত্য গেল নষ্ট হযে। আহারে তার আসক্তি তাকে আপন জঠরগহবরের কেন্দ্রে টেনে রাখল। আপনাকে না ভুললে মিলন হয না । মাহষের নানা চাওয আছে, সেই চাওযার মধ্যে একটি হচ্ছে খাবার জন্তে এই মাছকে চাওযা। কিন্তু তার চেযে তার বডো চাওযা, বিশ্বের