পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের তাৎপর্য 〉8> সঙ্গে সাহিত্য অর্থাৎ সম্মিলন চাওযা— নদীতীরে সেই স্বর্যাস্ত-আলোকে মহিমাম্বিত দিনাবসানকে সমস্ত মনের সঙ্গে মিলিত করতে চাওয়া । এই চাওযা আপনার অবরোধের মধ্য থেকে আপনাকে বাইরে আনতে চাওযা। বক দাড়ি,য আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বনের প্রান্তে সরোবরের তটে, স্বর্য উঠছে আকাশে, আরক্ত রশ্মির স্পর্শপাতে জল উঠছে ঝলমল করে— এই দৃশ্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্মিলিত আপনার মনটিকে ঐ বক কি চাইতে জানে। এই আশ্চর্য চাওযার প্রকাশ মানুষের সাহিত্যে । তাই ভর্তৃহরি বলেছেন, যে মানুষ সাহিত্যসংগীতকলাবিহীন সে পশু, কেবল তার পুচ্ছবিষাণ নেই এইমাত্র প্রভেদ। পশুপক্ষীর চৈতন্য প্রধানত আপন জীবিকার মধ্যেই বদ্ধ-মানুষের চৈতন্য বিশ্বে মুক্তির পথ তৈরি করছে, বিশ্বে প্রসারিত করছে নিজেকে, সাহিত্য তারই একটি বড়ো পথ । আমি যে টেবিলে বসে লিখছি তার এক ধারে এক পুষ্পপাত্রে আছে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, আর-একটাতে আছে ঘন সবুজ পাতার ফঁাকে ফাকে সাদা গন্ধরাজ । লেখবার কাজে এর প্রযোজন নেই। এই অপ্রযোজনের আযোজনে আমার একটা আত্মসম্মানের ঘোষণা আছে মাত্র। ঐটেতে আমার একটা কথা নীরবে রযে গেছে; সে এই যে, জীবনযাত্রার প্রযোজন আমার চার দিকে আপন নীরন্ধ্র প্রাচীর তুলে আমাকে আটক করে নি। আমার মুক্ত স্বরূপ আপনাকে প্রমাণ করছে ঐ ফুলের পাত্রে। চৈতন্য যার বন্দী, বিশ্বের সঙ্গে যথার্থ সাহিত্যলাভের মাঝখানে তার বাধা আছে তার রিপু, তার দুর্বলতা, তার কল্পনাদৃষ্টির অন্ধতা। আমি বন্দী নই, আমার দ্বার খোলা, তার প্রমাণ দেবে ঐ অনাবশুক ফুল ; ওর সঙ্গে যোগ বিশ্বের সঙ্গে যোগেরই একটি মুক্ত বাতাযন । ওকে চেয়েছি সেই অহৈতুক চাওয়ায় মাহষ যাতে মুক্ত হয একান্ত আবশুিকতা থেকে। এই আপন নিষ্কাম সম্বন্ধটি স্বীকার করবার জন্তে মানুষের কত উদ্যোগ তার