পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


3 (ι ο সাহিত্যের পথে সংখ্যা নেই। এই কথাটাই ভালো করে প্রকাশ করবার জন্তে মানবসমাজে রযেছে কত কবি, কত শিল্পী । সদ্য-তৈরি নতুন মন্দির, চুনকাম-করা। তার চার দিকে গাছপালা। মন্দিরটা তার আপন শু্যামল পরিবেশের সঙ্গে মিলছে না । সে আছে উদ্ধত হযে, স্বতন্ত্র হযে। তার উপর দিযে কালের প্রবাহ বইতে থাকৃ, বৎসরের পর বৎসর এগিযে চলুক। বর্ষার জলধারায প্রকৃতি তার অভিষেক করুক, রৌদ্রের তাপে তার বালির বঁাধন কিছু কিছু খসতে থাকৃ, অদৃশু শৈবালের বীজ লাগুক তার গাযে এসে ; তখন ধীরে ধীরে বনপ্রকৃতির রঙ লাগবে এর সর্বাঙ্গে, চারিদিকের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য সম্পূর্ণ হতে থাকবে । বিষমী লোক আপনার চার দিকের সঙ্গে মেলে না ; সে আপনাতে আপনি পৃথক ; এমন-কি, জ্ঞানী লোকও মেলে না, সে স্বতন্ত্র; মেলে ভাবুক লোক। সে আপন ভাবরসে বিশ্বের দেহে আপন রঙ লাগায, মানুষের রঙ। স্বভাবত বিশ্বজগৎ আমাদের কাছে তার বিশুদ্ধ প্রাকৃতিকতাষ প্রকাশ পায । কিন্তু মানুষ তো কেবল প্রাকৃতিক নয, সে মানসিক । মানুষ তাই বিশ্বের উপর অহরহ আপন মন প্রযোগ করতে থাকে। বস্তুবিশ্বের সঙ্গে মনের সামঞ্জস্য ঘটিযে তোলে। জগৎটা মানুষের ভাবানুষঙ্গে অর্থাৎ তার অ্যাসোসিযশনে মণ্ডিত হযে ওঠে। মানুষের ব্যক্তিস্বরূপের পরিণতির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বপ্রকৃতির মানবিক পরিণতির পরিবর্তন পরিবর্ধন ঘটে। আদিযুগের মানুষের কাছে বিশ্বপ্রকৃতি যা ছিল আমাদের কাছে তা নয। প্রকৃতিকে আমাদের মানবভাবের যতই অন্তর্ভুক্ত করে নিযেছি আমাদের মনের পরিণতিও ততই বিস্তার ও বিশেষত্ব লাভ করেছে। আমাদের জাহাজ এসে লাগছে জাপান-বন্দরে। চেযে দেখলুম দেশটার দিকে— নতুন লাগল, মুন্দর লাগল। জাপানি এসে দাড়ালে ডেকের রেলিং ধরে । সে কেবল মুন্দর দেশ দেখলে না, সে দেখলে, যে