পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাহিত্যের তাৎপর্য 5 & Σ' জাপানের গাছপালা নদী পর্বত যুগে যুগে মানবমনের সংস্পর্শে বিশেষ রসের রূপ নিযেছে সেটা প্রকৃতির নয, সেটা মানুষের। এই রসরূপটি মানুষই প্রকৃতিকে দিযেছে, দিযে তার সঙ্গে মানবজীবনের একান্ত সাহিত্য ঘটিযেছে। মানুষের দেশ যেমন কেবলমাত্র প্রাকৃতিক নয, তা মানবিক, সেইজন্তে দেশ তাকে বিশেষ আনন্দ দেয— তেমনি মানুষ সমস্ত জগৎকে হৃদযরসের যোগে আপন মানবিকতায আবৃত কবছে, অধিকার করছে, তার সাহিত্য ঘটছে সর্বত্রই। মানুষেরা সর্বমেবাবিশন্তি । বাহিরের তথ্য বা ঘটনা যখন ভাবের সামগ্রী হযে আমাদের মনের সঙ্গে রসের প্রভাবে মিলে যায তখন মানুষ স্বভাবতই ইচ্ছা করে সেই মিলনকে সর্বকালের সর্বজনের অঙ্গীকারভুক্ত করতে। কেননা রসের অনুভূতি প্রবল হলে সে ছাপিযে যায আমাদের মনকে। তখন তাকে প্রকাশ করতে চাই নিত্যকালের ভাষায ; কবি সেই ভাষাকে মানুষের অনুভূতির ভাষা করে তোলে ; অর্থাৎ জ্ঞানের ভাষা নয— হৃদযের ভাষা, কল্পনার ভাষা । আমরা যখনই বিশ্বের যে-কোনো বস্তুকে বা ব্যাপারকে ভাবের চক্ষে দেখি তখনই সে আর যন্ত্রের দেখা থাকে না, ফোটোগ্রাফিক লেন্সের যে যথাতথ দেখা তার থেকে তার স্বতই প্রভেদ ঘটে। সেই প্রভেদটাকে অবিকল বর্ণনার ভাষায প্রকাশ করা যায না । মাযের চোখে দেখা খোকার পাযে ছোট্ট লাল জুতোকে জুতো বললে তাকে যথার্থ করে বলাই হয না । মাকে তাই বলতে হল— খোকা যাবে নাযে, লাল জুতু্য পাযে । অভিধানের কোথাও এ শব্দ নেই। বৈষ্ণবপদাবলীতে যে মিশ্রিত ভাষা চলে গেছে সেটা যে কেবলমাত্র হিন্দি ভাষার অপভ্রংশ তা নয, সেটাকে পদকর্তার ইচ্ছা করেই রক্ষা করেছেন, কেননা অনুভূতির অসাধারণত