পাতা:সাহিত্যের পথে - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৫২ সাহিত্যের পথে ব্যক্ত করবার পক্ষে সাধারণ ভাষা সহজ নয। ভাবের সাহিত্য মাত্রেই এমন একটা ভাষার স্বষ্টি হয যে ভাষা কিছু-বা বলে কিছু-বা গোপন করে ; কিছু যার অর্থ আছে, কিছু আছে সুর। এই ভাষাকে কিছু আড় করে, বাক ক’রে, এর সঙ্গে রূপক মিশিযে, এর অর্থকে উলট-পালট করে তবেই বস্তুবিশ্বের প্রতিঘাতে মানুষের মধ্যে যে ভাবের বিশ্ব স্বস্ট হতে থাকে তাকে সে প্রকাশ করতে পারে। নইলে কবি বলবে কেন “দেখিবারে আঁখিপাখি ধায’ । দেখবার আগ্রহ একটা সাধারণ ঘটনা মাত্র । সেই ঘটনাকে বাইরের জিনিস করে না রেখে তাকে মনের সঙ্গে মিশিযে দেওযা হল যখন, কবি একটা অদ্ভুত কথা বললে, “দেখিবারে আঁখিপাখি ধায’ । আগ্রহ যে পাখির মতন ধায, এটা মনের স্বই ভাষা, বিবরণের ভাষা নষ । গোধূলিবেলার অন্ধকারে রূপসী মন্দির থেকে বাইরে এল, এ ঘটনাট বাহ ঘটনা এবং অত্যন্ত সাধারণ । কবি বললেন, নববর্ষার মেঘে বিদ্যুতের রেখা যেন দ্বন্দ্ব প্রসারিত করে দিযে গেল । এই উপমার যোগে বাহিরের ঘটনা আপন চিহ্ন একে দিযে গেল। আমাদের অন্তরে মন একে স্বষ্টির বিষয করে তুলে আপন করে নিলে। কোনো-এক অজ্ঞাতনামা গ্ৰীক কবির লিখিত কোনো-একটি শ্লোকের গদ্য অনুবাদ দিচ্ছি, ইংরেজি তর্জমার থেকে : আপেলগাছের ডালের ফঁাকে ফঁাকে ঝুরু ঝুরু বইছে শরতের হাওযা। থৰ্ব থর করে কেঁপে-ওঠা পাতার মধ্যে থেকে ঘুম আসছে অবতীর্ণ হযে পৃথিবীর দিকে— ছড়িযে পড়ছে নদীর ধারার মতো । এই-যে কম্পমান ডালপালার মধ্যে মর্মরমুখর স্নিগ্ধ হাওষায নিঃশব্দ নদীর মতো ব্যাপ্ত হযে পড়া ঘুমের রাত্রি, এ আমাদের মনের রাত্রি। এই রাত্রিকে আমরা আপন করে তুলে তবেই পূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারি। কোনো চীনদেশীয় কবি বলছেন—